ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রাবিতে হামলায় সাংবাদিকসহ আহত ১০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজন সাংবাদিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় অংশ নেওয়া ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী ওই হামলায় অংশ নেন।ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশ্যেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, লোহার পাইপ, বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অস্ত্রগুলো সরিয়ে বা লুকিয়ে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। পরে আবার তাদের হাতে অস্ত্র দেখতে পেয়ে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে যান। তখন সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। একই সময় আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবানও হামলার শিকার হন।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে আরও কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে যায়। অন্য সাংবাদিকরা তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাদেরও পুঁতে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানিয়েছেন। দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। তাদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। পুলিশকে ফোন করা হলেও পুলিশও ভয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের করা একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম তার মা ও বোনকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন।তবে রাকিবুল ইসলামের দাবি, আহসান হাবীব তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে তার অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেন।এর ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান করেন রাকিবুল ইসলাম। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটের দিকে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তারা রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার ঘোষণা দেন।ছাত্রদলের ওই অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন। এর পরই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে সেখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

রাবিতে হামলায় সাংবাদিকসহ আহত ১০