সৌদি আরবে হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি
বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের একটি বৃহৎ তেল শোধনাগারে হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং সম্ভাব্য সরবরাহ ঘাটতির উদ্বেগে বিশ্ববাজারে এ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৩৬ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১১৫ দশমিক ২৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৬২ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০১ দশমিক ৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।এর আগে মঙ্গলবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগারটিতে আঘাত হেনেছে। তবে দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন ওই শোধনাগারে হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি।আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান আইএনজি (ING)-এর পণ্যবাজার কৌশলবিদরা এক বিশ্লেষণে জানান, ভূরাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বাজার বর্তমানে বাড়তি ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে চলছে। ইরানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা পাওয়ার আগপর্যন্ত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা আরও জানান, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যদি ইরানে নতুন করে কোনো হামলা না হয়, তবে বাজারে বিদ্যমান ঝুঁকির চাপ কিছুটা শিথিল হতে পারে।এদিকে মার্কিন পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্যের বরাত দিয়ে বাজার সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুদ হ্রাস পেয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে মার্কিন তেলের মজুদ প্রায় ২০ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল কমেছে, যদিও রয়টার্সের এক জরিপে বিশ্লেষকরা ১৫ হাজার ব্যারেল বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) আনুষ্ঠানিক সরকারি তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।অন্যান্য বৈশ্বিক কারণের মধ্যে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের (OPEC+) আসন্ন রবিবারের বৈঠকের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক বাজার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ডিসেম্বরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখতে পারে জোটটি। বর্তমানে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক ও কুয়েতসহ সাতটি শীর্ষ সদস্য দেশের উৎপাদন নির্ধারিত কোটার নিচেই রয়েছে। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর স্থানীয়ভাবে ডিজেল উৎপাদন বাড়াতে রাশিয়ার বাল্টিক ও কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো থেকে আগামী মাসে তেল রপ্তানি কমতে পারে বলেও আভাস দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।সূত্র: রয়টার্স