ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সমুদ্রজুড়ে ৫৩টি চীনা জাহাজ: রণতরি লিয়াওনিং ঘিরে শঙ্কা!

জাপানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে শুরু করে তাইওয়ান হয়ে ফিলিপাইনের নিকটবর্তী বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমায় চীনের ৫০টিরও বেশি নৌবাহিনী ও সরকারি জাহাজের ব্যাপক উপস্থিতি শনাক্ত করেছে তাইওয়ান। এসব যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি শুধু তাইপেই নয়, বরং প্রতিবেশী জাপান ও ফিলিপাইনের নিরাপত্তার জন্যও স্পষ্ট হুমকি হিসেবে দেখছে তাইওয়ান প্রশাসন। এ পরিস্থিতিতে চীনা নৌবহর ও কোস্টগার্ডের গতিবিধি নজরদারির পাশাপাশি মানচিত্রের মাধ্যমে সেগুলোর অবস্থান প্রকাশ্যে এনেছে দ্বীপরাষ্ট্রটি।আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বিশদ মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। এতে মোট ৫৩টি চীনা জাহাজের সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করা হয়, যার মধ্যে ৩৪টিই দেশটির নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চীনের প্রথম বিমানবাহী রণতরি ‘লিয়াওনিং’।প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, লিয়াওনিংয়ের নেতৃত্বে যুদ্ধজাহাজের মূল বহরটি ফিলিপাইনের পূর্ব দিকের সমুদ্রে অবস্থান করছিল। পাশাপাশি কয়েকটি চীনা জাহাজ তাইওয়ানের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি এবং তিনটি যুদ্ধজাহাজ জাপানের দক্ষিণ উপকূলের নিকটবর্তী এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছিল।তবে চীন এসব সামরিক তৎপরতাকে স্বাভাবিক ও নিয়মিত মহড়া হিসেবে দাবি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাং শিয়াওগাং জানান, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে লিয়াওনিং রণতরির এই মহড়া কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে নয়; দূরবর্তী উন্মুক্ত সমুদ্রে দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক অভিযানের সক্ষমতা যাচাই করাই এর একমাত্র উদ্দেশ্য।এদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, তাদের কিউশু দ্বীপের কাছে অবস্থিত কৌশলগত ওসুমি প্রণালি অতিক্রম করে তিনটি চীনা যুদ্ধজাহাজ ও একটি কোস্টগার্ড জাহাজ প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। তাইওয়ানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ফিলিপাইন সাগরে মহড়া শেষে লিয়াওনিং বহর যদি উত্তর দিকে জাপানের দিকে অগ্রসর হয়, তবে তা টোকিওর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরির একটি কৌশল হতে পারে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংবাদপত্র ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বছর বেইজিং তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করছে মার্কিন সেনাবাহিনী। হাওয়াইয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে মার্কিন সেনা কমান্ডার রোনাল্ড ক্লার্ক এ প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। এর জবাবে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জানিয়েছেন, চীন তাইওয়ান দখলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথ কখনোই বাদ দেয়নি, তাই সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে নিজেদের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা দ্বিগুণ করছে তাইপে।সূত্র:  রয়টার্স

সমুদ্রজুড়ে ৫৩টি চীনা জাহাজ: রণতরি লিয়াওনিং ঘিরে শঙ্কা!