ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

‘সব ধরনের বিশৃঙ্খলা দমনে একযোগে কাজ করতে হবে’: আমিনুল হক

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ভোলা জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আমিনুল হক বলেন, “স্বৈরাচারের দোসররা বিভিন্নজনের সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। সব ধরনের বিশৃঙ্খলা দমনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই দেশটি আমাদের। আমরা এ দেশে জন্মেছি। দেশকে এগিয়ে নিতে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবার আগে বাংলাদেশকে ধারণ করে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আমাদের সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।”যুবসমাজ ও আগামী প্রজন্মের কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আমিনুল হক।তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকার যুব সমাজ ও আগামীর প্রজন্মকে স্বাবলম্বী করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম বিষয় ছিল আগামী প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।”দেশের গণতন্ত্র ও বাক্‌স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার প্রায় ৫৬ বছর আমরা পার করে ফেলেছি। এই ৫৬ বছর পরেও দেখা যাচ্ছে, গণতন্ত্র ও বাক্‌স্বাধীনতার জন্য অনেক ভাইকে রক্ত ও জীবন দিতে হয়েছে। আমরা সেই হারানো গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। হারানো গণতন্ত্রকে যাতে বাস্তবিক অর্থে দেশের জন্য ও দেশের উন্নয়নের জন্য কাজে লাগাতে পারি, সেই আহ্বান আগামীর প্রজন্মের কাছে রেখে গেলাম।”গত ১৭ বছরের পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর ওই স্বৈরাচার নিজেদের উন্নয়ন করেছে, নিজেদের পকেটের উন্নয়ন করেছে। সাধারণ মানুষের কোনো উন্নয়ন করে যেতে পারেনি। কিন্তু বর্তমান সরকার গত সাত মাসেই নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।”যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড’-এর আয়োজনে বিনা মূল্যে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। উৎস প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার ১৭৫ জনসহ সারা দেশে মোট ১১ হাজার ২০০ প্রশিক্ষণার্থী এতে অংশ নেবেন। তবে সমসাময়িক আরেকটি প্রতিবেদনে এই পর্যায়ের প্রশিক্ষণার্থী ৬ হাজার ৪০০ জন উল্লেখ করা হয়েছে; ফলে মোট সংখ্যাটিতে অসঙ্গতি রয়েছে।ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব উল আলম, যুগ্ম সচিব ডা. শেখ মোহাম্মদ জুবায়ের হোসেন এবং ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. গোলাম নবী আলমগীরসহ অন্যরা।অনুষ্ঠান শেষে সেরা ফ্রিল্যান্সারদের হাতে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। এর আগে ভোলার ইলিশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন তিনি।

‘সব ধরনের বিশৃঙ্খলা দমনে একযোগে কাজ করতে হবে’: আমিনুল হক