ট্রাম্পের দাবি, নেতানিয়াহু কখনো যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হবেন না
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।”[BANGVIEWS-POST:2233]নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর ট্রাম্প এ ঘোষণা দিলেন। মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর স্থান নেদারল্যান্ডসের হেগে—যেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদর দপ্তর অবস্থিত।নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্ক সফর করলে আইসিসির পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করার কোনো আইনি সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে নগর কর্তৃপক্ষের আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান মামদানি। তবে নিউ ইয়র্ক পুলিশকে বিদেশি কোনো সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে আইসিসির পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির প্রতিষ্ঠাতা চুক্তি রোম সংবিধানের সদস্য নয় এবং আদালতটির এখতিয়ারও স্বীকার করে না। মার্কিন আইনে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারি সংস্থার আইসিসিকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে শুধু আইসিসির পরোয়ানার ভিত্তিতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের পক্ষে নেতানিয়াহুকে আটক করা গুরুতর আইনি বাধার মুখে পড়তে পারে।ট্রাম্প তার পোস্টে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। ইরান সম্প্রতি ৫২ হাজার নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে ট্রাম্পের এই সংখ্যার পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক কম; প্রায় ৫২ হাজারের কাছাকাছি সংখ্যাটি মূলত আটকের হিসাবের সঙ্গে মিলে যায়।আইসিসি ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালত জানায়, গাজায় যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে অনাহার ব্যবহার এবং হত্যা, নিপীড়ন ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগে তাদের দায়ী মনে করার যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা পরিচালনার অভিযোগও উল্লেখ করেছে আদালত।[BANGVIEWS-POST:2234]এগুলো এখনো অভিযোগ; নেতানিয়াহুকে আইসিসি দোষী সাব্যস্ত করেনি। তিনি সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আদালতটির পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন।অন্যদিকে, ইসরায়েলে ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একটি পৃথক দুর্নীতি মামলার বিচার চলছে। সেখানেও তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।