ঢাকা    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হোয়াইট হাউসে শি জিনপিং, ট্রাম্পের আতিথেয়তায় আলোচনায় তাইওয়ান-রাশিয়া-ইরান

ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে দুই নেতার এই রাষ্ট্রীয় বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তাইওয়ানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়েছে। একই সময়ে ইরান যুদ্ধও দুই দেশের কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও শির বৈঠকে বড় কোনো অগ্রগতির চেয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে তুলনামূলক স্থিতিশীল হিসেবে তুলে ধরার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। বাণিজ্য বিরতি আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বড় ধরনের কোনো সমঝোতা হবে—এমন প্রত্যাশা কম।বৈঠকে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি তাইওয়ান। বৈঠক শেষে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, শি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার’ বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বৈঠকের পরপরই হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে নিজস্ব কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি।তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন এবং দ্বীপটির স্বাধীনতার যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করে বেইজিং। অন্যদিকে তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতেও ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। ফলে দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকে তাইওয়ান প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।বাণিজ্যও বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্ক, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। তবে উভয় পক্ষই বাণিজ্যিক সম্পর্কের বড় ধরনের অস্থিরতা এড়াতে কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতার পথে এগিয়েছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্য বিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য এবং একাধিক কৌশলগত বিরোধের কারণে বৈঠক থেকে বড় ধরনের breakthrough বা যুগান্তকারী সমঝোতার প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।চীনের জন্য বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন দেশটির বাণিজ্য পরিস্থিতি তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ববাজারে চীনা পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ সরবরাহে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান বেইজিংকে আলোচনায় বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা ক্রমেই কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে।সব মিলিয়ে ট্রাম্প ও শির বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতার বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা থাকলেও তাইওয়ান, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়ে মতপার্থক্য বহাল রয়েছে। ফলে বৈঠকটির তাৎক্ষণিক গুরুত্বের পাশাপাশি এর পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হোয়াইট হাউসে শি জিনপিং, ট্রাম্পের আতিথেয়তায় আলোচনায় তাইওয়ান-রাশিয়া-ইরান