হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী দাবি
কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী দাবি করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এলাকাটিতে সামরিক নিরাপত্তা জোরদার থাকায় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে সমুদ্রের নিচে পাতা মাইনে আঘাত লেগে একটি বড় তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন করে বিস্ফোরণ ঘটেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ৯৫ শতাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ সম্পূর্ণ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। তবে ইরান এখনো চলাচলকারী সাধারণ জাহাজে হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মুখপাত্র আরও জানান, ইরানের পণ্য আমদানি ও রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে প্রণালির আশপাশে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করে বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে বেপরোয়া হামলা চালিয়ে সাধারণ নাবিকদের জীবন বিপন্ন করছে তেহরান। তাঁর দাবি, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ফলেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি ও তেল পরিবহন সংঘাত শুরুর আগের অবস্থার কাছাকাছি পর্যায়ে ফিরতে পেরেছে এবং তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে।বিপরীতে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে তাদের পেতে রাখা মাইনের আঘাতে একটি বিশালাকার তেলবাহী জাহাজে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর আগে একই অঞ্চলে আরও দুটি তেল ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের খবর দিয়েছিল দেশটি, তবে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণটি একই জাহাজের কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও সরাসরি হামলা চালাবে। এমনকি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাত এলে হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা আন্তর্জাতিক সমুদ্রগর্ভস্থ যোগাযোগ ও ইন্টারনেট কেবলগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।এই তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তাঁর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থপূর্ণ আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগে ওয়াশিংটনকে সামরিক হুমকি, অর্থনৈতিক চাপ এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে। মধ্যস্থতার চেষ্টায় তেহরান সফররত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কূটনৈতিক সমঝোতায় ফিরলেও যুক্তরাষ্ট্র আবারও যেকোনো সময় নতুন করে সামরিক আঘাত হানতে পারে বলে গভীর শঙ্কা রয়েছে তেহরানের।সূত্র: শাফাক নিউজ