ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কুড়িগ্রামে পুরো উপজেলায় কেবল যমজ দুই বোনই পেলেন জিপিএ-৫

বাবার বেকারত্ব ও সংসারের অভাব-অনটন পেরিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাটের যমজ দুই বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার। রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে এ সাফল্য পেয়েছেন তাঁরা। তাঁদের ফলাফলে আনন্দিত পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী।রহিমা ও রাবেয়ার বাড়ি উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রামকার্জি গ্রামে। তাঁদের বাবা মনির হোসেন সরদার রিজু ও মা নাসিমা বেগম। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট দুই মেয়ে রহিমা ও রাবেয়া।কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৪২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন এই দুই বোন। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহা. জহুরুল ইসলাম জানান, উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মানবিক শাখায় শুধু তাঁরাই জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।বাবা বেকার থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে চলছে পরিবারটি। দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়েছে মা-বাবাকে। এ অবস্থায় তাঁদের পাশে দাঁড়ান কয়েকজন শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষ।প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল দুই বোনের মধ্যে একজনকে বিনা বেতনে পড়িয়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষও ভর্তি, ফরম পূরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি উপবৃত্তি পেয়েছেন তাঁরা।মেয়েদের সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী বেকার। অনেক কষ্ট করে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি। কয়েকজন শিক্ষক বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ ভর্তি, ফরম পূরণসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে নামমাত্র টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া তারা উপবৃত্তিও পেয়েছে। সবার সহযোগিতা না পেলে হয়তো মেয়েদের পক্ষে এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না।’রহিমা ও রাবেয়া জানান, পরিবারের কষ্ট কিছুটা কমাতে এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে ভালো ফলের লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তাঁরা। কলেজে যাতায়াত ও খাওয়াদাওয়ার সময় বাদে দিনের বেশির ভাগ সময় পড়াশোনায় ব্যয় করতেন। এখন ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখছেন দুই বোন। সে লক্ষ্যে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহা. জহুরুল ইসলাম বলেন, যমজ দুই বোনের এই সাফল্যে কলেজের সবাই আনন্দিত। কলেজের পক্ষ থেকে তাঁদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

কুড়িগ্রামে পুরো উপজেলায় কেবল যমজ দুই বোনই পেলেন জিপিএ-৫