ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কঙ্গোর ২৭ সেনাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যাওয়া অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) একটি সামরিক আদালত যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটার অভিযোগে ২৭ সেনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় সামনের সারির অবস্থান ছেড়ে সরে যাওয়ার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালতের নথির বরাত দিয়ে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উভিরা সামরিক আদালতে ২১তম সিম্বা ব্যাটালিয়নের অন্তত ১১২ সেনার বিচার শুরু হয় গত ১৫ সেপ্টেম্বর। আগস্টে পূর্ব কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সময় দায়িত্ব পালনে অবহেলা, সামরিক নির্দেশ অমান্য এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এসব সেনার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়।আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামরিক নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে ৫৪ সেনাকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১০ সেনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় অন্তত ২১ সেনাকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাস পাওয়া সেনাদের মধ্যে পাঁচজন নারীও রয়েছেন।কৌঁসুলিদের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, উভিরাকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে এসব সেনাকে মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তাদের একটি অংশ সামনের অবস্থান ছেড়ে পিছু হটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।ডিআর কঙ্গোতে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনাদের সরে যাওয়ার ঘটনায় এর আগেও সামরিক আদালত কঠোর সাজা দিয়েছেন। চলতি বছরের মে মাসে একই ধরনের একটি ঘটনায় ৫৮ সেনাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সম্মুখসারি থেকে সরে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সামরিক নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ আনা হয়েছিল।সর্বশেষ বিচার চলাকালীনও উভিরা এলাকায় সরকারি বাহিনী ও এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংঘাতের মধ্যে উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।পূর্ব কঙ্গোর দীর্ঘদিনের সংঘাতের অন্যতম প্রধান পক্ষ এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ২০২৫ সালের শুরুতে গোমা ও বুকাভু শহর দখলের পর গোষ্ঠীটি পূর্ব কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর অঞ্চলটিতে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে।কঙ্গো সরকার, জাতিসংঘ এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশ এম২৩ বিদ্রোহীদের সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রতিবেশী রুয়ান্ডাকে দায়ী করে আসছে। তবে কিগালি বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।সূত্র: আনাদোলু

কঙ্গোর ২৭ সেনাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যাওয়া অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড