৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগার কার? টানটান উত্তেজনায় ভোট গণনা
ইসরায়েলের জাতীয় সংসদ (নেসেট) নির্বাচনের ভোট গণনা এগিয়ে চলার সাথে সাথে দেশটির ক্ষমতার ভবিষ্যৎ ঘিরে গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জটিল অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আংশিক ভোট গণনায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার আভাস দিলেও, তিনি কিংবা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট—কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৬১টি আসনের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারছেন না। বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা চলছে। ইসরায়েলি সেনাসদস্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত কূটনীতিকদের বিশেষ ‘ডাবল-এনভেলপ’ বা দ্বৈত খাম পদ্ধতির কয়েক লাখ ভোট গণনা সম্পন্ন হতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সামগ্রিক গণনা শেষ করে নির্বাচনের এক সপ্তাহ পর, অর্থাৎ আগামী ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ইসরায়েলের জটিল সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে ফলাফল নির্ধারণ প্রক্রিয়া বেশ সময়সাপেক্ষ। পার্লামেন্টে আসন পেতে হলে প্রতিটি দলকে জাতীয় প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ থ্রেশহোল্ড অতিক্রম করতে হয়। এবার প্রায় এক ডজন দল এই সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার ফলে আসন বণ্টনের হিসাব আরও সূক্ষ্ম ও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পর পরবর্তী সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ করবেন এবং কার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব তা যাচাই করবেন। এরপর সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেওয়া হবে, যিনি মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য সর্বোচ্চ ৪২ দিন পর্যন্ত সময় পাবেন। ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো একক রাজনৈতিক দলের পক্ষে কখনো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে দেশটিতে সবসময় বহুদলীয় জোট সরকারের ওপরই নির্ভর করতে হয়। যদি মনোনীত প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তবে অন্য কাউকে সেই সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে সব ধরনের রাজনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটিতে পুনরায় সাধারণ নির্বাচনের ডাক দেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না, এবং সে পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবে বর্তমান মন্ত্রিসভা।