'মোরেলগঞ্জ হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে'
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালটির উন্নয়নকাজের দরপত্র প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।শনিবার, ২৫ জুলাই মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিকভাবে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, দেশের চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।[BANGVIEWS-POST:2484]প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের উপস্থিতি, জনবল সংকট, ওষুধের মজুত ও বিতরণ, রোগীদের খাবারের মান এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিষয়ে খোঁজ নেন।পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়ে থাকতে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের বাথরুমেও সরকারি ওষুধ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বলে জানান তিনি।সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দরিদ্র রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেলেও হাসপাতালের ভেতরে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।হাসপাতালে জমে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নির্ধারিত নিয়ম মেনে ধ্বংস করার জন্য বাগেরহাটের জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ ভোট দিয়ে বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাই জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের বড় দায়বদ্ধতা রয়েছে। অতীতের ব্যর্থতাকে অজুহাত হিসেবে না দেখিয়ে বিদ্যমান সম্পদ ব্যবহার করেই সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।তিনি বলেন, সরকার চায় না কোনো মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে মারা যাক। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও যেন সহজে মানসম্মত চিকিৎসা পায়, সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।মোরেলগঞ্জ হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি অবকাঠামো, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। দ্রুত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের পাশের একটি বেসরকারি ক্লিনিকেও যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে কিছু অসংগতি দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন এবং স্বাস্থ্যসেবার নির্ধারিত মান অনুসরণের নির্দেশ দেন।[BANGVIEWS-POST:2483]স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থের অপব্যবহারের কারণে চিকিৎসাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।পরিদর্শনের সময় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকারদার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতিসহ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মোরেলগঞ্জে পরিদর্শন শেষে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।জনগণের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।