মোংলায় বাঙ্কার বোটের ধাক্কায় কয়লাবোঝাই জাহাজডুবি
বাগেরহাটের মোংলা বন্দর সংলগ্ন পশুর নদে তেলবাহী একটি বাঙ্কার বোটের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন কয়লাবোঝাই ‘এমভি ফুলবাড়ী’ নামের একটি লাইটার জাহাজ ডুবে গেছে।সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাতে পশুর নদের সুন্দরীকোঠা এলাকায় এ নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে। জাহাজটিতে থাকা মাস্টারসহ ১০ জন নাবিক তাৎক্ষণিকভাবে সাঁতরে সুন্দরবন তীরবর্তী চরে উঠে অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পান। পরবর্তীতে অন্য একটি জাহাজের সহায়তায় তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনাটি মূল চ্যানেলের বাইরে ঘটায় মোংলা বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন রয়েছে।ডুবে যাওয়া জাহাজটির মাস্টার মো. সুজন জানান, মোংলা বন্দরের বহির্নোঙর হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত বড় বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘ইয়াসা জুপিটার’ থেকে ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় লাইটার জাহাজ ‘এমভি ফুলবাড়ী’। পথিমধ্যে পশুর নদের সুন্দরীকোঠা সংলগ্ন নৌপথে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘ওটি জান্নাতুল ফেরদৌস’ নামের একটি তেলবাহী বাঙ্কার বোটের সঙ্গে জাহাজটির সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে কয়লাবাহী জাহাজটির তলা ফেটে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা নদে তলিয়ে যায়।জাহাজের মাস্টার আরও জানান, জাহাজডুবির মুখে নাবিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁতরে নদের পাশে সুন্দরবনের চরে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে রাতে পাশ দিয়ে যাওয়া ‘এমভি রানিয়া-১৩’ নামের আরেকটি লাইটার জাহাজ চরে আটকে থাকা ১০ জন নাবিককে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে।মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত কয়লাবোঝাই লাইটার জাহাজটি মূল নৌচ্যানেলের বাইরে ডুবেছে। ফলে চ্যানেলে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। মোংলা বন্দরে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন ও বহির্গমন পুরোপুরি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রয়েছে।