ছয় বিশ্বকাপের রেকর্ড গড়ে অবসরে ওচোয়া
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে মেক্সিকোর গোলবারের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে থাকা গুইলার্মো ‘মেমো’ ওচোয়া পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার রেকর্ড গড়েই ২২ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন তিনি।গত ১৩ জুলাই ৪১ বছর পূর্ণ করা ওচোয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় গ্লাভস তুলে রাখার সিদ্ধান্ত জানান। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দিতে পারায় গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।২০০৩ সালে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেছিলেন ওচোয়া। দুই বছর পর ২০০৫ সালে মেক্সিকোর জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। জাতীয় দলের হয়ে ১৫৩টি ম্যাচ খেলেছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।[BANGVIEWS-POST:2275]২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আসর পর্যন্ত টানা ছয়টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা পান ওচোয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নেমে ছয়টি আলাদা বিশ্বকাপ আসরে খেলা প্রথম গোলরক্ষক হওয়ার কীর্তিও গড়েন তিনি।মেক্সিকোর ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে নিয়মিত একাদশে অবশ্য জায়গা হয়নি ওচোয়ার। চেকিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেমে প্রায় ১২ মিনিট গোলবার সামলান তিনি।মাঠে নামার পর দর্শক ও সতীর্থদের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পান ওচোয়া। ম্যাচ শেষে কোচ ও সতীর্থরা তাকে ঘিরে বিদায়ী সম্মান জানান। দীর্ঘদিনের এই গোলরক্ষককে শূন্যে ছুড়ে উদ্যাপনও করেন তারা।বিদায়ী বার্তায় ওচোয়া বলেন, একজন গোলরক্ষকের জন্য ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনের সময় সিদ্ধান্ত নিতে কোনো দ্বিধা রাখা যায় না। নিজের স্বপ্ন তাকে এত দূর নিয়ে যাবে, ক্যারিয়ারের শুরুতে তা ভাবতেও পারেননি বলে জানান তিনি।মেক্সিকোর হয়ে খেলতে পারাকে জীবনের অন্যতম বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন ওচোয়া। পরিবার, সতীর্থ, কোচ ও সমর্থকদের ভালোবাসা সঙ্গে নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।[BANGVIEWS-POST:2269]বিশ্বকাপে ওচোয়ার সবচেয়ে স্মরণীয় পারফরম্যান্সগুলোর একটি ছিল ২০১৪ সালে স্বাগতিক ব্রাজিলের বিপক্ষে। দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে ম্যাচটি গোলশূন্য রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের রবার্ট লেভানডোভস্কির পেনাল্টি ঠেকিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন এই গোলরক্ষক।জাতীয় দলের হয়ে ছয়বার কনকাকাফ গোল্ড কাপ জিতেছেন ওচোয়া। ২০২৪-২৫ মৌসুমে মেক্সিকোর প্রথম কনকাকাফ নেশনস লিগ শিরোপাজয়ী দলেরও সদস্য ছিলেন তিনি।ওচোয়ার বিদায়ের মধ্য দিয়ে মেক্সিকোর ফুটবলে দীর্ঘ একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ঝাঁকড়া চুল, অসাধারণ প্রতিক্রিয়াশক্তি এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে একের পর এক স্মরণীয় সেভের জন্য ফুটবলপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি।