ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পূজার নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, মুসলমানের অংশগ্রহণে ঈমান থাকবে না

দেশের অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা ও নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতী আব্দুল মালেক। একই সঙ্গে মুসলমানদেপূজার নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, পূজায় অংশ নিলে ঈমান থাকবে না: বায়তুল মোকাররম খতিবর নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও আকিদার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।সম্প্রতি জুমার বয়ানে ধর্মীয় অধিকার, তাওহীদ ও শিরক সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন জাতীয় মসজিদের খতিব।মুফতী আব্দুল মালেক বলেন, বাংলাদেশে বসবাসরত অন্য ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রয়েছে। তাঁরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও জরুরি দায়িত্ব।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অমুসলিমদের ধর্ম পালনের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের কোনো বিরোধ নেই।তবে ধর্মীয় সহনশীলতা এবং অন্য ধর্মের উপাসনাকে বিশ্বাসগতভাবে সমর্থন করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।খতিব বলেন, কোনো মুসলমান উদারতা বা নমনীয়তার নামে পূজায় অংশ নিলে কিংবা পূজাকে সঠিক ধর্মীয় পথ হিসেবে স্বীকৃতি বা সমর্থন দিলে তাঁর ঈমান থাকবে না।এটি তাঁর ধর্মতাত্ত্বিক অবস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্য ধর্মের অনুসারীদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং ইসলামের দৃষ্টিতে শিরককে সমর্থন করা এক বিষয় নয়।ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুফতী আব্দুল মালেক বলেন, তাওহীদ বা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং একমাত্র তাঁর ইবাদত করাই ইসলামের মূল ভিত্তি।তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা চাইলে তাওহীদে বিশ্বাসী ব্যক্তির অন্যান্য গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন। তবে শিরককে তিনি অত্যন্ত গুরুতর পাপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, আল্লাহ তাআলা শিরক ক্ষমা করবেন না।খতিবের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষকে শিরক থেকে বিরত রেখে তাওহীদের পথে আহ্বান জানাতেই আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন।বয়ানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের তায়েফের ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।মুফতী আব্দুল মালেক বলেন, তায়েফে নির্যাতনের শিকার হয়ে রক্তাক্ত হওয়ার পরও মহানবী (সা.) নির্যাতনকারীদের ধ্বংস কামনা করেননি।বরং তিনি আশা করেছিলেন, নির্যাতনকারীরা নিজেরা ঈমান না আনলেও তাঁদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কেউ এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকবে।এ ঘটনার মাধ্যমে ক্ষমা, সহনশীলতা ও মানুষের প্রতি কল্যাণকামিতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন খতিব।তিনি মুসলমানদের নিজ ধর্মের মৌলিক আকিদা অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি সমাজে শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

পূজার নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, মুসলমানের অংশগ্রহণে ঈমান থাকবে না