ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে অন্তত চারটি আক্রমণাত্মক ড্রোন ভূপাতিত করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। অন্যদিকে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে দেশটিকে সামরিক ও কৌশলগত সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে কায়রো প্রস্তুত রয়েছে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।শনিবার (১৭ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানী রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলে অনুপ্রবেশ করা চারটি ড্রোন শনাক্ত করে তা আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি হুথিদের ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দৃশ্য এবং ইয়েমেনের ভেতরে হুথিদের একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে পাল্টা বিমান হামলার ভিডিও প্রকাশ করেন।চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে হুথি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সংঘাত তীব্র রূপ নেওয়ার পর থেকেই সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী রিয়াদের কৌশলগত ‘কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ অন্তত ২০ বার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। গত সপ্তাহে এই বিমানবন্দরে চালানো এক প্রাণঘাতী হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হন। এছাড়া বৃহস্পতিবার এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে এবং শুক্রবার এডেন বিমানবন্দরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথিরা। এর জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেন সরকারের ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানে সরাসরি বিমান ও লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে।এমন পরিস্থিতিতে রিয়াদের পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিয়েছে কায়রো। শনিবার প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হলে তাদের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে মিসর। তিনি স্পষ্ট করেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা মিসরের নেই, তবে সৌদির ক্ষতি করা হলে মিসর নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে না। এই পদক্ষেপ কাউকে আক্রমণ করার জন্য নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রেসিডেন্টের আহ্বানে রোববার মিসরের পার্লামেন্টে এক জরুরি অধিবেশন ডাকা হয়েছে।এদিকে সৌদি আরবের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সংঘাত ও সহিংসতা বৃদ্ধিতে পেছন থেকে সরাসরি মদদ দিচ্ছে ইরান। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, শক্তিপ্রয়োগ নয়, বরং সমন্বিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই এ সংকট সমাধানের একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরবে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দর ব্যবহারে সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে হামলার আশঙ্কায় রিয়াদ ও পার্শ্ববর্তী দিরিয়াহ অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সশরীরে ক্লাসের পরিবর্তে দূরশিক্ষণ বা অনলাইন কার্যক্রমের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর