সমাবেশে নিকি মিনাজকে নিয়ে ট্রাম্পের ‘অশ্লীল’ মন্তব্য, পরে ক্ষমা প্রার্থনা
আসন্ন মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে জোর প্রচারণা চালিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পোর্ট হুরনে আয়োজিত এ নির্বাচনী সমাবেশে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত হয়ে পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনের দৃষ্টি কেড়েছেন বিশ্বখ্যাত পপ ও র্যাপ তারকা নিকি মিনাজ। সোনালি রঙের গুচি ব্র্যান্ডের পোশাকে মঞ্চে উপস্থিত হয়ে নিজেকে প্রকাশ্যে ট্রাম্পের ‘এক নম্বর ভক্ত’ হিসেবে দাবি করেন এই সংগীতশিল্পী এবং জনতাকে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের পক্ষে স্লোগান দিতে নেতৃত্ব দেন।তবে রাজনৈতিক প্রচারণার চেয়ে ট্রাম্পের কিছু আপত্তিকর ব্যক্তিগত মন্তব্য এবং ডেমোক্রেট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের কারণে সমাবেশটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মঞ্চে মিনাজের উপস্থিতির ভূয়সী প্রশংসা করতে গিয়ে একপর্যায়ে তাঁর শারীরিক অবয়ব ও শরীর নিয়ে সরাসরি আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেন ট্রাম্প। এর আগে ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের শরীর নিয়ে অতীতে নিজের করা সমালোচিত মন্তব্যের সাফাই গাইতে গিয়ে তিনি বলেন, পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন মন্তব্য তিনি সচরাচর করেন না, তবে নারীদের ক্ষেত্রে এটি ঘটে। এর সূত্র ধরেই তিনি নিকি মিনাজের শরীর নিয়ে মন্তব্য করেন, যা শুনে দর্শকেরা উল্লাস প্রকাশ করলেও বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার খোরাক জোগায়। পরিস্থিতির মাত্রা বুঝতে পেরে পরবর্তীতে এক বিরল দৃশ্যে ট্রাম্প ক্ষমা চেয়ে বলেন, “আশা করি নিকি অপমানিত বোধ করেনি, আমরা নিকিকে ভালোবাসি।”মিনাজ ট্রাম্পের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ চড়ে মিশিগানে পৌঁছান। বিমানে ভ্রমণকালে ট্রাম্পের সহযোগীর সঙ্গে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদে কাল্পনিক সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও ধারণ করা হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভাইরাল হয়ে যায়। সম্প্রতি কেটি জাকারিয়ার পদত্যাগের পর থেকে পদটি খালি থাকায় এ রসিকতা নতুন জল্পনা তৈরি করে। অতীতে ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন ও পরিবার বিচ্ছিন্নকরণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন মিনাজ; তবে সাম্প্রতিক সময়ে নাইজেরিয়ার খ্রিষ্টানদের প্রসঙ্গ এবং প্রস্তাবিত ‘গোল্ড কার্ড’ ভিসা কর্মসূচির বিষয়ে ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁর প্রতি নিজের রাজনৈতিক সমর্থন প্রকাশ করে আসছেন এই শিল্পী।এদিকে মিশিগানের হাই-ভোল্টেজ সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স ও ডেমোক্রেটিক পার্টির মুসলিম প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। এর আগের দিনই আল-সাইয়েদের সমর্থনে নির্বাচনী মাঠে নেমেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রোববারের সমাবেশে ট্রাম্প মূলত ডেমোক্রেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের পারিবারিক ও ধর্মীয় পরিচয়কে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ করেন এবং তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ‘জিহাদিদের আমন্ত্রণ জানাবেন’ বলে বিতর্কিত রাজনৈতিক অভিযোগ তোলেন।