বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা তুর্কি টেক্সটাইল জায়ান্টের
বাংলাদেশের বস্ত্র খাতে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান সানকো গ্রুপ। চট্টগ্রামের মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে একটি সমন্বিত টেক্সটাইল উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপন করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ পরিকল্পনা তুলে ধরে সানকোর প্রতিনিধিদল। বৈঠকে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।[BANGVIEWS-POST:2667]সানকোর প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদার ভিত্তিতে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তারা। বর্তমানে তুরস্ক থেকে টেক্সটাইল পণ্য সরবরাহ করলেও বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমশক্তি, বাজার ও রপ্তানি সক্ষমতা বিবেচনায় দেশে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানটি।প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় কাপড় উৎপাদন, ফেব্রিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজিত টেক্সটাইল পণ্য তৈরি করা হবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে সানকোর বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পাশাপাশি নতুন ক্রেতাদেরও বাংলাদেশে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন প্রতিনিধিরা।প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা ইতোমধ্যে হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অবকাঠামোগত সুবিধা পাওয়া গেলে কয়েক মাসের মধ্যে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাণকাজ শুরুর পর ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদন চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।বৈঠকে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন দ্রুত পাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে সানকো। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পটিতে কয়লাবিহীন জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনপ্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।[BANGVIEWS-POST:2653]সানকোর প্রতিনিধিরা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতকে উচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় কারখানাগুলোও উপকৃত হতে পারে।মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সানকোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকার শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এবং বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।তবে বিনিয়োগ পরিকল্পনাটি এখনো প্রস্তাবিত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন, জমি ও জ্বালানি সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন শুরু হবে।