ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মিরসরাইয়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতি, গ্রে'প্তার ৫

অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি থেকে লুট করা হয় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী। এবার সেই ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. মতিন উল্লাহর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যরাতে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুরের শেখের তালুক এলাকায় মতিন উল্লাহর বাড়িতে ঢোকে। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করা হয়।এরপর বাড়ির বিভিন্ন কক্ষের আলমারি ও আসবাবপত্র তছনছ করে ডাকাতরা। পুলিশ বলছে, তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর, ডিভিআর, সিপিইউসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন ভুক্তভোগীরা। এরপর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও মিরসরাই থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মো. রহিম, বরুড়ার মো. জামাল প্রকাশ কুদ্দুস, দাউদকান্দির মো. সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সজিব এবং লাকসামের মো. আনোয়ার হোসেন মিলন ও মো. হানিফ। পুলিশ জানিয়েছে, আনোয়ার ও হানিফ চট্টগ্রাম মহানগরের আকবর শাহ এলাকায় বসবাস করেন।গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি এলজি, চার রাউন্ড কার্তুজ, দুটি বড় ছোরা, একটি ট্রাক, লুণ্ঠিত সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআর ও মনিটর, একটি সিপিইউ এবং একটি ভাঙা তালা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গ্রেপ্তারদের মধ্যে রহিমের বিরুদ্ধে চুরি, অস্ত্র, খুন ও ডাকাতিসহ ১০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জামালের বিরুদ্ধে চারটি, সাইফুলের বিরুদ্ধে দুটি এবং হানিফের বিরুদ্ধে ডাকাতির চেষ্টার একটি মামলা রয়েছে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত একাধিক ডাকাতির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।তদন্তে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য, অবসরের পর পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা হিসেবে মতিন উল্লাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পেয়েছেন, এমন তথ্য জানতে পেরেছিল ডাকাত দলটি। সেই অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর আশায় তারা বাড়িটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে থাকতে পারে।তবে এই তথ্য পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদভিত্তিক দাবি। ডাকাতির পরিকল্পনা ও প্রত্যেক আসামির নির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের পরই আরও স্পষ্ট হবে।এ ঘটনায় এখনো কয়েকজন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মিরসরাইয়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতি, গ্রে'প্তার ৫