মালয়েশিয়ায় ২০ মাসে আটক ১ লাখ ৫৯ হাজার অবৈধ অভিবাসী
মালয়েশিয়ায় গত বছর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত গত ২০ মাসে ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৩২ জন অনথিভুক্ত বিদেশি অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এই সময়ে দেশব্যাপী মোট ৫৩ হাজার ৩১৮টি সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ ৫৯ হাজার ১৯১ জন অভিবাসীর কাগজপত্র তল্লাশি ও যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৬ হাজার ৯৯ জন স্থানীয় ও বিদেশি নিয়োগদাতার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্ট দেওয়ান রাকিয়াতে সংসদ সদস্য দাতুক রোসল ওয়াহিদের (পিএন হুলু তেরেঙ্গানু) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশটির ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বৈধ ভ্রমণ অনুমতিপত্র (ভিসা) বা বৈধ কাজের পারমিট না থাকা এবং অনুমোদিত মেয়াদের অতিরিক্ত সময় অবস্থান (ওভারস্টে) করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।একই সঙ্গে রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) পরিচয়পত্র জালিয়াতির একটি বড় চক্র শনাক্ত করার তথ্যও সংসদে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, কুয়ালালামপুরে এই জাল কার্ড চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে ছয়জন বিদেশি নাগরিককে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।শরণার্থী হিসেবে দাবি করা ব্যক্তিদের নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ় করতে সরকার শিগগিরই ‘শরণার্থী নিবন্ধন নথি’ (ডিপিপি) নামে নিজস্ব একটি আধুনিক নিবন্ধন কর্মসূচি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় সরকার নিজেই একটি সমন্বিত ডেটাবেজ গড়ে তুলবে। এর মাধ্যমে আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাই, আঙুলের ছাপসহ বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ, নিরাপত্তা যাচাই এবং সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রকৃত শরণার্থীর মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।মালয়েশিয়া সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইউএনএইচসিআরের বর্তমান কার্ডধারীরা সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন এই ‘ডিপিপি’ কর্মসূচির আওতায় বৈধ শরণার্থী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন না। সরকারের নিজস্ব কঠোর নিরাপত্তা ও যাচাইপ্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই কেবল তাঁদের শরণার্থী স্বীকৃতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই স্বতন্ত্র নিবন্ধনব্যবস্থা কার্যকর হলে ভুয়া নথি ব্যবহার, পরিচয় জালিয়াতি ও সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।