ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরানি সরকারের সঙ্গে স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন: মার্কো রুবিও

ইরানের বর্তমান ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার কট্টরপন্থি শিয়া ধর্মীয় নেতাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ায় তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো অর্থপূর্ণ সমঝোতা বা দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন প্রভাবশালী সম্প্রচারমাধ্যম সিএনবিসিকে (CNBC) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ খোলামেলা মন্তব্য করেন।সাক্ষাৎকারে রুবিও সরাসরি উল্লেখ করেন, “ইরানি শাসকদের সঙ্গে কোনো বাস্তবিক চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত দুরূহ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, তারা দক্ষ বা বাস্তববাদী কোনো আলোচক নয়; বরং তারা পুরোপুরি কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মীয় নেতাদের কড়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “তারা মূলত ধর্মীয় মতাদর্শ দ্বারা পরিচালিত হয়। ফলে তাদের সঙ্গে টেবিল আলোচনায় কোনো টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।”ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। সেই থেকেই দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের প্রথম দিনই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে কঠোর অবরোধ জারি করে ইরান। জবাবে তেহরানের সমস্ত সমুদ্রবন্দরে পাল্টা নৌ অবরোধ আরোপ করে মার্কিন নৌবাহিনী। গত আট মাস ধরে চলা এই অবরোধ ও পাল্টা অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে তীব্র অস্থিরতা ও সংকট বিরাজ করছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের দৌড়ঝাঁপে দুই দফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং গত জুন মাসে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হলেও শেষ পর্যন্ত সংঘাতের পুনরাবৃত্তিতে সেই প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়।যুদ্ধের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের ধারাবাহিক হামলা ও মাইন ব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করেন মার্কো রুবিও। এ ধরনের সামুদ্রিক আগ্রাসনকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ‘নজিরবিহীন’ আখ্যা দিয়ে তিনি ইরানের এই যুদ্ধকৌশলকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নাৎসি বাহিনীর সাবমেরিন হামলার কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেন।রুবিও বলেন, “আমরা এমন একটি দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেখছি, যারা রাখঢাক না রেখে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বমঞ্চে এমন আগ্রাসী আচরণ আর দেখা যায়নি। তারা এমন কৌশল ব্যবহার করছে যা নাৎসিদের সেই কুখ্যাত সাবমেরিন অপারেশনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। এটি এমন এক আন্তর্জাতিক সংকট, যার বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বকে একযোগে রুখে দাঁড়াতে হবে।”এদিকে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই শান্তি মধ্যস্থতার লক্ষ্যে সম্প্রতি তেহরান সফর করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সেখানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ মুখপাত্র মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠককালে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ওয়াশিংটনকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ তেহরানের দেওয়া ৭টি পূর্বশর্ত পূরণ করতে হবে; অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সংলাপে বসবে না ইরান।

ইরানি সরকারের সঙ্গে স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন: মার্কো রুবিও