ট্রাম্পের হারে ইরানের খোঁচা: মার্কিন ভোটাররা যুদ্ধের বিরুদ্ধে!
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন ভরাডুবি এবং বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের নাটকীয় বিজয়ের পর তেহরান মন্তব্য করেছে যে, আমেরিকান জনগণ সরাসরি ‘যুদ্ধের বিরুদ্ধে’ নিজেদের রায় প্রদান করেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট (মজলিস) স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।এক্সে দেওয়া বার্তায় ইরানি স্পিকার উল্লেখ করেন, “বিবেক কিংবা অস্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যয়—যে কারণেই হোক না কেন, আমেরিকান জনগণ স্পষ্টভাবে যুদ্ধের বিরুদ্ধে ‘না’ বলেছে এবং আমরা সাধারণ মানুষের এই যুদ্ধবিরোধী অবস্থান ও বার্তাকে পূর্ণ সমর্থন জানাই।” একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের মূল নীতিনির্ধারক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সতর্ক করে তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক অর্থদাতা ও স্বার্থান্বেষী ব্ল্যাকমেইলারদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে মার্কিন প্রশাসন যদি তাদের দেশের জনগণের এই সুস্পষ্ট ইচ্ছার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তবে তাদের মনে রাখা উচিত যে আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া ‘না’-এর পরিণতি হিসেবে এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন নেমে আসবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যক্ষভাবে ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আগ্রাসী সিদ্ধান্ত। এই যুদ্ধ শুরুর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি মার্কিন সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ ও সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে চরম মাত্রায় ঠেলে দেয়। ব্যালট প্রয়োগের মাধ্যমে মার্কিন ভোটাররা সেই ক্ষোভেরই স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।এমনকি নির্বাচনের এই অপ্রত্যাশিত পরিণতিতে ইরান যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও। সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের এই ফলাফলের একটি বড় অংশের পেছনে নিশ্চয়ই ইরান ইস্যু কাজ করেছে। তিনি দাবি করেন, মানুষ হয়তো তাঁর মধ্যপ্রাচ্য নীতির সামগ্রিক প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছে, তবে বাড়তি দামে জ্বালানি তেল কেনার মতো স্বল্পমেয়াদি কঠিন চাপ সাধারণ ভোটাররা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না এবং তাঁদের সেই ক্ষোভের জায়গাটি তিনি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছেন।সূত্র: মিডল ইস্ট আই