ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের হারের পর তেহরানে বিশাল আমেরিকা-বিরোধী সমাবেশ

ইরান যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির হাত থেকে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তেহরানে সাবেক মার্কিন দূতাবাসের সামনে আমেরিকা-বিরোধী বার্ষিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৯ সালে মার্কিন দূতাবাস দখল ও কূটনীতিকদের জিম্মি করার ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে আয়োজিত এই সমাবেশে বুধবার হাজার হাজার ইরানি সমবেত হয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সাবেক দূতাবাস প্রাঙ্গণে সমবেত জনতা ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘ইসরাইল নিপাত যাক’ স্লোগানে চারপাশ প্রকম্পিত করে তোলে। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা এবং ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে লেখা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড। সমাবেশের মূল আকর্ষণ ছিল একটি বিশাল ব্যানার, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শিকলে বাঁধা এক ‘রক্তমাখা বুলডগ’ হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়; যার শিকলের অন্য প্রান্ত ধরে রেখেছিল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবয়বধারী এক শয়তানি চরিত্র। এছাড়া অন্যান্য ব্যানারে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়।সমাবেশস্থলে প্রদর্শিত অপর একটি প্রতীকী প্রদর্শনীতে বিশ্ব মানচিত্রজুড়ে সারি সারি কালো তেলের ড্রাম এঁকে নিচে লেখা ছিল—‘মূল্য কত হবে তা নির্ধারণ করেছে ইরানের জনগণ’। এর মাধ্যমে চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়িয়ে পশ্চিমা অর্থনীতিকে ঘায়েল করার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। ওয়াশিংটন এর পালটা হিসেবে ইরানের প্রধান বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করলেও হরমুজের অচলাবস্থা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে।সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ ইরানিরা জানান, দীর্ঘ বছর ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে কেবল ইরানিরাই কষ্ট ভোগ করেছে; এবার জ্বালানি সংকটের মাধ্যমে পশ্চিমা সাধারণ নাগরিকেরাও সেই দুর্ভোগের অংশীদার হওয়ায় তারা একধরনের মানসিক সান্ত্বনা খুঁজে পাচ্ছেন। তবে ওয়াশিংটনের মসনদে ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান যে দলই আসুক না কেন, তা ইরানের প্রতি মার্কিন শত্রুভাবাপন্ন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো মৌলিক ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে না বলেই মনে করেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, মার্কিন ভোটাররা স্পষ্টতই যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে এবং তেহরান এই যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে সমর্থন করে। তবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক সংলাপ নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মাঝে বড় কোনো দৃশ্যমান সাফল্য অর্জনে এখনও ব্যর্থ হয়েছে।সূত্র: এএফপি

মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের হারের পর তেহরানে বিশাল আমেরিকা-বিরোধী সমাবেশ