বরিশালে রাতের পর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকে মারধরের অভিযোগ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সোমবার রাত ৩টার দিকে দুই ছাত্রদলের নেতাকে দুইজনের দ্বারা মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার কারণ ছিল নির্মাণাধীন বিটাক ভবনের পাশে অবস্থিত একটি বাড়িতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রক্রিয়া বন্ধ করতে গেলে সংঘর্ষ বাধায়।আহত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক পিয়াস আহমেদ রিফাত ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল মোল্লা। স্থানীয় পক্ষ থেকে আহত হয়েছেন ওই পরিবারের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য শিল্পী বেগম ও তার জামাতা রিয়াজ। তাদের সবাই শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানা যায়, রাতে তাদের তিনজন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন। তখন রহিম মিয়ার বাড়ির একটি ঘরে দুই নারী ও এক পুরুষকে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখে তারা সেখানে গিয়ে প্রশ্ন করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা ওই তিনজনের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার তথ্য জানতে পারেন। তবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য অর্থ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তা প্রত্যাখ্যান করলে বিষয়টি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।আকস্মিকভাবে রহিমের জামাতা রিয়াজ ও ছেলে আরমান তাদেরকে 'ডাকাত' বলে চিৎকার করে, দড়ি দিয়ে বেঁধে ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল নেতারা। তাদের সহকর্মী রায়হান পরিস্থিতি বুঝে অন্যদের খবর দেন এবং পরে তারা এসে আহত নেতাদের উদ্ধার করেন। উদ্ধারকালে স্থানীয় পক্ষের সঙ্গে মারামারি হয় এবং ছাত্রদল নেতারা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাল্টা অভিযোগ করেছেন।অপর দিকে রহিম মিয়া দাবি করেছেন যে তিনি এবং তার পরিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর দ্বারা যেসব অবৈধ কর্মকাণ্ড হয়, তার প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীরা হামলা চালিয়েছে এবং লুটপাট করেছে। তিনি এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও জামাতাকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি দেখেছেন এবং নিজে বাড়ি থেকে পালিয়ে রয়েছেন।স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জুয়েল হোসেন বলেন, তিনি চিৎকার শব্দ শুনে তার বাড়ির পাশে এসে ঘটনাটি দেখেন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মারাধর ও লুটপাট করেছে। তিনি এ প্রসঙ্গে অভিযোগ করেন যে কিছু ছাত্রদল নেতারা পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে চাঁদা আদায় করে থাকেন, কিন্তু ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব এ প্রক্রিয়া বন্ধ করেছেন।বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলেই পুলিশ পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি, তবে মামলা হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রাহিত হবে।এদিকে, মাদকের অর্থ লেনদেনের সম্ভাবনা থাকলেও উভয় পক্ষ তা অস্বীকার করেছে।