ঢাকা    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

গাজায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সমর্থন ফ্রান্স যুক্তরাজ্য ও কানাডার

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ফ্রান্স, কানাডা ও যুক্তরাজ্য। গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরাইলের বিধিনিষেধকে বিশ্বের জন্য ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে এ মন্তব্য করেন। একই সময়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজা সিটিতে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৯৯ জন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ইউএনজিএতে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, প্রায় এক বছর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রায় এক ডজন দেশের মধ্যে ফ্রান্সও ছিল। গাজার পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিষ্ক্রিয় থাকলে তার বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায়—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।ম্যাক্রোঁ বলেন, কেউ কেউ কথিত শান্তির কথা বলছেন। কিন্তু সেই শান্তি এক সেকেন্ডের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দেয়নি। এমন পরিস্থিতি বিশ্বকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে হবে কি না—প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এমন দৃশ্য সবাইকে লজ্জিত করে।ফরাসি প্রেসিডেন্ট অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ওপর ইসরাইলের নিরাপত্তা নির্ভর করে—যারা এমনটা মনে করেন, তারা গুরুতর ভুল করছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বর্তমান ও ভবিষ্যতে ইসরাইলের নিরাপত্তাকে দুর্বল করবে এবং তা হুমকির মুখে ফেলবে।ম্যাক্রোঁর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইউএনজিএতে একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম বলেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে রাজনীতিবিদদের ওপর মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে। তাঁর ভাষ্য, কয়েক দশক ধরে বিশ্বের অনেক রাজনীতিবিদ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কথা বলে আসছেন। কিন্তু সেই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপ না থাকলে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা আরও কমবে।বার্নহ্যাম জানান, পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরাইলি বসতিতে বাণিজ্যও নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। তিনি ইসরাইলের ‘ই-১’ বসতি প্রকল্পকে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাধাগ্রস্ত করার ‘ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন করার আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।এদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য ১০ কোটি কানাডিয়ান ডলার বা প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি।কার্নি জানান, ঘোষিত সহায়তার ৮০ শতাংশ সরাসরি মানবিক সহায়তায় এবং বাকি ২০ শতাংশ ‘শান্তি ও নিরাপত্তা’ নিশ্চিতে ব্যয় করা হবে। এর আওতায় অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কানাডার বহুবর্ষী উদ্যোগও রয়েছে।গাজায় ফিলিস্তিনিরা ব্যাপক মানবিক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন উল্লেখ করে কার্নি বলেন, ইসরাইলিরাও হামাস, ইরান ও তাদের মিত্রদের কাছ থেকে ‘অস্তিত্বের হুমকি’ মোকাবিলা করছে।তিনি ইসরাইলের ই-১ বসতি প্রকল্পেরও সমালোচনা করেন। পাশাপাশি অধিকৃত ভূখণ্ডের বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনার কথা জানান। এ ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ ঘোষণাকারী ১২টি দেশের মধ্যে কানাডাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ইসরাইলের গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অটোয়া ৬০ কোটি কানাডিয়ান ডলারের বেশি বা প্রায় ৪২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।সূত্র: আলজাজিরা

গাজায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সমর্থন ফ্রান্স যুক্তরাজ্য ও কানাডার