ঢাকা    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মাদ্রাসায় নারীর সঙ্গে শিক্ষকের আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস

নেত্রকোনার এন. আকন্দ কামিল মাদ্রাসার এক প্রভাষকের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওটি মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. এহেসানুল হক। তিনি মাদ্রাসাটির অনার্স বিভাগের আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন। তার পদটি নন-এমপিওভুক্ত। তিনি বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক এবং তার বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় বলে জানা গেছে।মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন জানান, গত ২০ আগস্ট মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা চলছিল। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটরে একটি কক্ষে একজন শিক্ষক ও বোরকা পরিহিত এক নারীকে অবস্থান করতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা সেটি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে কয়েকজন শিক্ষক অভিযুক্ত প্রভাষক এহসানুল হককে ডেকে ওই ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।অধ্যক্ষের ভাষ্য, প্রথমে এহসানুল হক বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়টি সামনে আনা হলে একপর্যায়ে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান।অধ্যক্ষ জানান, ঘটনার কয়েক দিন পর গত ২৬ আগস্ট তিনি সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ডাউনলোড করা ভিডিওটি দেখতে পান। এরপর মাদ্রাসার অনার্স বিভাগের চেয়ারম্যানকে ডেকে বিষয়টি জানান এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একই দিন তার ব্যবহৃত কক্ষের তালা পরিবর্তন করা হয় এবং তাকে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।এরপর কঠোর পদক্ষেপের মুখে গত ১ সেপ্টেম্বর মো. এহসানুল হক পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে শিক্ষকমণ্ডলীর জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় এবং তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।অধ্যক্ষ আরও জানান, বিষয়টি মাদ্রাসার গভর্নিং বডি, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা-আইসিটি) বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে।অভিযুক্ত প্রভাষক মো. এহসানুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে কয়েকজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, শিক্ষকদের আচরণ শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে ঘটনাটি কেউ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা বলেন, তিনি ঘটনাটি শোনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি, সে বিষয়ে তারা ভালো বলতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

মাদ্রাসায় নারীর সঙ্গে শিক্ষকের আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস