ঢাকা    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার সময় এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আমিনুল ইসলাম (৬৪) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উল্লাশ্বর (হাবিবউল্লাহ চেয়ারম্যান বাড়ি) এলাকায় শিশুটিকে ধর্মীয় শিক্ষার প্রাইভেট পড়ানোর সময় বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধরের হুমকি এবং শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়। পরে শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মো. আইয়ুব খান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি প্রায় দুই বছর ধরে ওই শিক্ষকের কাছে ধর্মীয় শিক্ষার প্রাইভেট পড়ছিল। গত তিন-চার মাস ধরে পড়ানোর সময় বিভিন্ন সময়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো এবং শারীরিকভাবে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে শিশুটি তার মাকে জানায়। ভয়ে প্রথম দিকে সে বিষয়টি কাউকে জানায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।ঘটনার দিন বাড়িতে ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করলে তার স্কুলের শিক্ষিকা সামছুন্নাহার বিষয়টি জানতে চান। পরে শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো শিক্ষিকাকে জানায়। এরপর শিক্ষিকা ফোন করে শিশুটির মাকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং মেয়েকে ওই শিক্ষকের কাছে আর না পাঠানোর পরামর্শ দেন।শিশুটির মায়ের দাবি, মেয়ের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, এসব বিষয় কাউকে জানালে তাকে বস্তায় ভরে মারধর এবং বালিশ দিয়ে চাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। শিশুটি হাত-পা টেনে ধরা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা দেওয়ার অভিযোগও করেছে বলে জানান তিনি। একটি ঘটনায় জামাকাপড় খুলে ফেলার অভিযোগও শিশুটি করেছে। ওই সময় মাদ্রাসাশিক্ষকের পরিবারের এক নারী সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলেও শিশুটি জানিয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।শিশুটির মা বলেন, তার মেয়ে ভয়ে অনেক দিন বিষয়গুলো কাউকে জানাতে পারেনি। ঘটনার দিন স্কুলের শিক্ষিকা ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে তিনি প্রথমে আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজনকে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেন।শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সংবাদ পাওয়ার পর গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।ওসি আরও বলেন, আসামি আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে