ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, জনজীবনের সংকট নিরসন এবং আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া তৃতীয় ধাপের লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের এক গুরুত্বপূর্ণ যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।ব্রিফিংয়ে মাওলানা মামুনুল হক জানান, গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এই লংমার্চের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, শাপলা চত্বরের গণহত্যা ও শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মতো সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিও লংমার্চে জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করে তিনি বলেন, এর আগে চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের লংমার্চ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে তৃতীয় ধাপের এই লংমার্চ শুরু হবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলা প্রদক্ষিণ শেষে তা কুষ্টিয়ায় গিয়ে সমাপ্ত হবে। তিনি জানান, কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে; তবে কোনো পক্ষ অপতৎপরতা চালালে তা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে।গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে লংমার্চের গাড়িবহর অতিক্রমকালে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, গোপালগঞ্জের বিপুলসংখ্যক ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে লংমার্চে যোগ দেবেন। সেখানে কোনো অপতৎপরতা বা সহিংসতার সুযোগ নেই; আর যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তার পূর্ণ দায়ভার স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারকেই নিতে হবে।সরকারের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে এবং রাজপথে বিরোধী দল সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে এলেও সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে না। দেশের সামগ্রিক সংকট উত্তরণে সরকার যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে ১১ দল।আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় বিবেচনায় কর্মকর্তাদের পদায়ন করায় কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ঠাকুরগাঁওয়ের সাম্প্রতিক উপনির্বাচনেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় কোনো বিচ্যুতি ঘটলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওসহ বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সাম্প্রতিক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ক্রসফায়ার সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এমন অবিবেচনাপ্রসূত বক্তব্যে পুরো দেশবাসী হতভম্ব ও স্তম্ভিত। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফরে উপযুক্ত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের যুক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ সফরকে বিনোদনমূলক করে তোলারও সমালোচনা করেন তিনি। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, ১১ দলীয় ঐক্য কোনো বিদেশি চক্রান্ত নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করছে।বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর আল্লামা আবু জাফর, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা প্রমুখ।

৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের