ইউরোপের সর্বোচ্চ চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন শাকিল
ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এলব্রুস জয় করেছেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। প্রতিকূল আবহাওয়া ও তুষারঝড় মোকাবিলা করে ২৬ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় চূড়ায় পৌঁছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ওড়ান তিনি।এলব্রুসের চূড়ায় পৌঁছানোর পথটি সহজ ছিল না। ২৫ সেপ্টেম্বর ভোরে শাকিলের সামিট পুশ শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা বাতিল করে অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা।এর আগে টানা দুই দিনের তুষারপাতে এলব্রুসের পথ হাঁটুসমান নরম বরফে ঢেকে যায়। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার রাতে চূড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন শাকিল। তার সঙ্গে ছিলেন সহ-পর্বতারোহী হিদার এবং গাইড অ্যালেক্স।তাদের যাত্রা দেখে আরও দুটি দল চূড়ায় ওঠার চেষ্টা শুরু করে। তবে কিছুদূর এগোনোর পর পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়ে ওঠে। হিমশীতল ঝোড়ো হাওয়া, তুষারঝড় ও ভারী তুষারপাতের কারণে দৃশ্যমানতা কমে যায়। নরম বরফে বারবার পা ডুবে যাওয়ায় সামনে এগোনো এবং সঠিক পথ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।একপর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি হলে অন্য দুটি দল ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শাকিল, হিদার ও অ্যালেক্স অভিযান চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত তিনজনই একসঙ্গে মাউন্ট এলব্রুসের চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হন। সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে ধরেন শাকিল।এলব্রুস জয়ের পর শাকিল বলেন, ‘২৫ তারিখের পূর্বাভাসে আবহাওয়া কিছুটা শান্ত হওয়ার আভাস ছিল। কিন্তু এলব্রুসে আরোহনের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস কমই কাজে লাগে। এলব্রুসের বিরূপ আচরণেও আমরা ফিরে আসিনি।’তিনি আরও বলেন, ‘পাহাড় কখনো কখনো মানুষের শক্তি মাপে না। সবকিছু যখন ফিরতে বলে, তখনো সে কতদূর যেতে রাজি, সেটাই মাপে। আর এই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও এলব্রুস চূড়ায় দেশের পতাকা ওড়াতে পেরে আমি গর্বিত।’‘বাংলাদেশ-রাশিয়া ফ্রেন্ডশিপ অভিযান’-এর অংশ হিসেবে এ পর্বতারোহণের আয়োজন করে রাশিয়ান হাউজ ইন ঢাকা এবং বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব। অভিযানে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে টার্কিশ এয়ারলাইন্স এবং জীবন ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশন।অভিযান উপলক্ষে গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রাশিয়ান হাউজে শাকিলের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।অভিযান শেষে মস্কো হয়ে শিগগিরই দেশে ফেরার কথা রয়েছে ইকরামুল হাসান শাকিলের।