মমতার দলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তীব্র: তিন ইস্যুতে বিভক্তি গভীর হচ্ছে তৃণমূলে
পশ্চিমবঙ্গে টানা পনেরো বছরের শাসনের পর ভোটের ফল ঘোষণার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের বিভাজনের চিত্র দেখা দিয়েছে। দলটি কার্যত তিনটি পৃথক রাজনৈতিক গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।নতুন করে গড়ে ওঠা এই অভ্যন্তরীণ ভাঙনে একদিকে রয়েছে বিধানসভায় আলাদা ব্লক গঠন করা একটি বিদ্রোহী অংশ, অন্যদিকে দিল্লিতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত একাধিক সংসদ সদস্যের পৃথক অবস্থান গ্রহণ, আর তৃতীয় পক্ষ হিসেবে রয়েছে মমতা ব্যানার্জী ও অভিষেক ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন মূল শিবির।[BANGVIEWS-POST:234]বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি তৃণমূলের রাজনৈতিক কাঠামো ও সংগঠনিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।দলের অভ্যন্তরীণ সংকটের পেছনে মূলত তিনটি কারণকে সামনে আনছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রথমত, তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের ‘নির্বাচন-কেন্দ্রিক রাজনীতি’, যেখানে আদর্শিক ভিত্তির চেয়ে ভোটকেন্দ্রিক কৌশলই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিরোধী দল বিজেপির সক্রিয় রাজনৈতিক কৌশল, যা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে উৎসাহিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তৃতীয়ত, দলীয় নেতৃত্বে অভিষেক ব্যানার্জীর ভূমিকা ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তিনটি কারণ একসঙ্গে কাজ করায় দলীয় ঐক্য ভেঙে পড়েছে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছে।তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দল ভাঙনের বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি। শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতিকে ‘অস্থায়ী অসন্তোষ’ হিসেবে দেখলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।[BANGVIEWS-POST:233]
এদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, এই বিভাজন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব ভবিষ্যৎ নির্বাচনে স্পষ্টভাবে দেখা যেতে পারে।