রামলীলা ময়দানে মমতার অভিযোগ: ভোট চুরি করে গণতন্ত্র হরণ
ভোট চুরি করে এবং কারচুপির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছে বলে দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বিশাল সমাবেশ থেকে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে তীব্র কটাক্ষ করে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন তিনি।রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে এ যৌথ সমাবেশের আয়োজন করে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা এতে অংশ নেন।সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা নির্বাচনে হারিনি, আমাদের পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। বিজেপি ভোট লুট করেছে এবং দেশের সাংবিধানিক গণতন্ত্রকে কার্যত হরণ করেছে।” পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার তথাকথিত বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণ করার অভিযোগ এনে তিনি দাবি করেন, রাজ্যটিতে এক কোটিরও বেশি মানুষের নাম তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে শুধু ভোট নয়, ভোট গণনার স্বচ্ছ প্রক্রিয়াও অদৃশ্য করে দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ আখ্যা দিয়ে তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি যৌথভাবে দেশের গণতান্ত্রিক স্তম্ভগুলোকে ধ্বংস করছে। এই বিশেষ সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য বিজেপিকে রাজনৈতিক বাড়তি সুবিধা দেওয়া, যার কারণে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার, সম্মান ও সাংবিধানিক অধিকার ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে।সমাবেশে উপস্থিত তেজস্বী যাদব, কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিংভি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুপ্রিয়া সুলেসহ বিরোধী শীর্ষ নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মমতা দেশের যুব ও জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মকে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বিচার বিভাগের নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকার আবেদন জানিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় বিচারব্যবস্থাকে সক্রিয় হতে হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিপ্লবী রামপ্রসাদ বিসমিলের কবিতার পঙ্ক্তি উচ্চারণ করে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।এদিকে ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মমাফিক এই নিবিড় সংশোধনীর উদ্দেশ্য হলো কেবল ভুয়া, মৃত ও একাধিক স্থানে নাম থাকা ভোটারদের বাদ দেওয়া; ভুলবশত কারও নাম বাদ পড়লে তা সংশোধনের পূর্ণ আইনি সুযোগ রয়েছে।