ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মতলব উত্তরে মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকার

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নদীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছুটা নজরদারি থাকলেও বিকেল গড়ালেই নদীতে তাদের উপস্থিতি কমে যায়। এই সুযোগে সংঘবদ্ধ কয়েক শত জেলে ট্রলার ও নৌকা নিয়ে নদীতে জাল ফেলে অবস্থান নেন। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে সারারাতব্যাপী চলে নির্বিচার মা ইলিশ শিকার। এরপর ভোরের আলো ফোটার আগেই সেই মাছ দ্রুত নদীর তীরবর্তী অস্থায়ী আড়ত ও হাটগুলোতে নিয়ে আসা হয়।উপজেলার ষাটনল এলাকার বাবুবাজারে ফজরের নামাজের পর থেকেই সকাল ৭টা পর্যন্ত পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মা ইলিশ বেচাকেনা চলে। এছাড়া আমিরাবাদ বাজার নদীপাড়ে দুপুর ১২টার পর শত শত পাইকারের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে মা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে, যেখান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ইলিশ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে। একইভাবে এখলাসপুর, মোহনপুর, দশআনী, মুক্তির পল্লী ও জনতার বাজার এলাকাতেও প্রকাশ্যেই নিষিদ্ধ ইলিশ কেনাবেচা চলছে।জেলেদের অভিযোগ, প্রশাসনকে অর্থ না দিয়ে নদীতে নামার উপায় নেই। জসিম উদ্দিন, খোরশেদ ব্যাপারী ও আয়নাল মিয়াসহ একাধিক জেলে অভিযোগ করে জানান, তাঁরা স্থানীয় মৎস্য অফিস ও মোহনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়িকে নৌকা প্রতি ২০ হাজার টাকা করে দিয়ে বিশেষ ‘টোকেন’ সংগ্রহ করেছেন। যারা এই অর্থ পরিশোধ ছাড়া নদীতে নামেন, কেবল তাদেরই আটক ও জরিমানা করা হয়। আমিরাবাদ মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেনও পরোক্ষভাবে ম্যানেজ করার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, জেলেদের জীবিকা ও পেটের তাগিদেই স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বাজার চালু রাখা হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের জনবল সীমিত হওয়ায় রাতের অন্ধকারে বিশাল জলসীমায় সার্বক্ষণিক অভিযান চালানো কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে, তবুও আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।” উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সজীব চন্দ্র দে-ও জনবল সংকটের যুক্তি দিয়ে জানান যে শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মৎস্য বিভাগ নদীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

মতলব উত্তরে মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকার