ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মার্কিন ভোটারদের জরিপ থেকে যা জানা গেছে

যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে প্রকৃত ভোটারদের ওপর পরিচালিত জাতীয় জরিপের প্রথম দফার তথ্য বিশ্লেষণে দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার একটি অত্যন্ত নেতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। স্বনামধন্য গবেষণা সংস্থা এসএসআরএস পরিচালিত এই জাতীয় সমীক্ষার ফলাফল গত কয়েক মাসে প্রকাশিত প্রধান প্রধান জনমত জরিপের পূর্বাভাসকেই জোরালোভাবে সমর্থন করছে। এতে দেখা গেছে, মার্কিন ভোটারদের মানসিকতায় তীব্র হতাশা কাজ করছে এবং তাঁদের উদ্বেগের তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও রাজনৈতিক দুর্নীতি।জরিপের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামগ্রিক কাজের মূল্যায়নে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। তাঁর প্রতি সমর্থনের হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৮ শতাংশে, যেখানে নেতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটার। জনমত জরিপগুলোর ইতিবাচক ইঙ্গিত নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল, বাস্তব ভোটের এই চিত্র আপাতত তাদের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ভোটারদের অর্থনৈতিক মূল্যায়নে স্পষ্ট হয়েছে যে, সাধারণ মার্কিনীরা অর্থনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতি নিয়ে অত্যন্ত হতাশ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিগুলো দেশের পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। প্রতি দশজনের মধ্যে চারজনেরও বেশি স্পষ্ট করেছেন যে দুই বছর আগের তুলনায় তাঁদের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা কমেছে। একই সঙ্গে প্রতি দশজনের মধ্যে ছয়জন নাগরিক গ্যাসোলিন, পেট্রোল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমনকি বৈশ্বিক বা বাহ্যিক কারণের চেয়ে খোদ ট্রাম্পের প্রশাসনিক ভুল সিদ্ধান্ত ও নীতিগুলোকেই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন দশজনের মধ্যে ছয়জন।অর্থনীতির বাইরে ভূরাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ নিয়েও ভোটারদের মধ্যে কঠোর মনোভাব দৃশ্যমান হয়েছে। প্রতি দশজনের মধ্যে ছয়জন ভোটার মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন মারাত্মক ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে। প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটারের দাবি, কংগ্রেস নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ইরান সংঘাত অন্যতম প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। এ ছাড়া রেকর্ড ৯০ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, সরকারি দুর্নীতি রোধের বিষয়টি তাঁদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান মানদণ্ড ছিল। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) বর্তমান বিতর্কিত কার্যক্রমকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার। তবে সার্বিক ক্ষোভের মধ্যেও ইতিবাচক দিক হলো, দেশটির সিংহভাগ ভোটার আস্থা প্রকাশ করেছেন যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুষ্ঠু, নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে।সূত্র: বিবিসি

মার্কিন ভোটারদের জরিপ থেকে যা জানা গেছে