জোড়া ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে চাপা হাজারো মানুষ, নিখোঁজ ৭ হাজারের বেশি
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও জনপদে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ৭০০ জনকে। একই সঙ্গে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির বিরোধী নেতারা।[BANGVIEWS-POST:597]ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতারা—যাদের অনেকেই বর্তমানে নির্বাসনে অবস্থান করছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তৈরি একটি বিশেষ ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করেছেন। কারাকাস সময় রাত প্রায় ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ওই ওয়েবসাইটে ৭ হাজার ৩৮১ জনকে নিখোঁজ বা সন্ধানহীন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।তবে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এই নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করতে পারেনি।[BANGVIEWS-POST:595]মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১০টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমার অঞ্চলের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে কাছাকাছি এলাকায় এমন দুটি বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়া তুলনামূলকভাবে বিরল ঘটনা, যা ‘জোড়া ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত।এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলার সরকারি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো পূর্বাভাসের সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্যও প্রকাশ করেনি।উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের সন্ধানে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স