ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চার বছরে দেশকে পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্য সরকারের: ডা. জাহিদ

আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে বাংলাদেশকে পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সামগ্রিক বিকাশের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।বুধবার সকালে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জনে অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জাহিদ হোসেন বলেন, শিশুদের যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে। পথশিশুদের নিয়ে কাজ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের আলাদা বিভাগ রয়েছে। ওই বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।পথশিশুদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার সুযোগ দিলেই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন মন্ত্রী। তাদের মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও এসব সুযোগের আওতায় আনতে হবে বলে জানান তিনি।বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু সুবিধাপ্রাপ্ত শিশু নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও একই ছাতার নিচে নিয়ে আসতে চায় সরকার। শিশুদের সার্বিক বিকাশে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে।সব শিশুর জন্য সমান সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো শিশু নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে করবে না। রাস্তায় থাকা শিশু এবং পরিবারের সঙ্গে থাকা শিশুদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও বিকাশের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।তিনি বলেন, “আমরা চাই, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নামে যে কথাটি আমরা এখন ব্যবহার করছি, এই কথাটি আর কখনো যেন ব্যবহার করতে না হয়।”পাহাড় ও সমতলের মানুষসহ ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে সবার জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা জরুরি। শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব প্রতিরোধে শুধু আইন থাকাই যথেষ্ট নয়, সামাজিকভাবে মানুষকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করাও প্রয়োজন।শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কেবল বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কিংবা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্ব নয় বলেও উল্লেখ করেন জাহিদ হোসেন। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিতভাবে এ দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।মন্ত্রী বলেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিশু থেকে প্রবীণ পর্যন্ত সব মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ থাকবে।সেমিনারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার এবং শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

চার বছরে দেশকে পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্য সরকারের: ডা. জাহিদ