ভোটার তালিকা সংশোধন: কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিস
ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর আদালত চত্বরের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে এই সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একাধিক রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে (ইসিআই) আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠিয়েছেন আদালত। এসব মামলার মধ্যে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির আবেদনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর প্রাথমিক শুনানিকালে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিরোধীদের নানা অভিযোগের পাশাপাশি সর্বোচ্চ আদালত চত্বরের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি প্রধানভাবে সামনে আসে। রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী শীর্ষ নেতাদের দলবল নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশ এবং সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত জমায়েত সৃষ্টির ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বেঞ্চের বিচারপতিরা। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিরোধী দলগুলোর মূল অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা এবং আইনি ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ। এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছেন বিরোধী নেতারা। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং কমিশনের বিতর্কিত পদক্ষেপ পর্যালোচনার দাবিতে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হন। যদিও আদালত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দিয়েছেন, তবে মূল অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত রায় আসেনি।আদালত চত্বরে সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খল ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজসহ সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নষ্ট না করে যথাযথভাবে সংরক্ষণের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিবাদ ও জমায়েতের সময় ধারণ করা ফুটেজগুলো ভবিষ্যৎ তদন্ত ও আইনি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিশেষ করে রাহুল গান্ধী ও তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের আদালত চত্বরে প্রবেশের সময়ের সার্বিক পরিস্থিতির সত্যতা যাচাইয়ে এসব ফুটেজ খতিয়ে দেখা হতে পারে।এদিকে দিল্লির ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল ‘যন্তর মন্তর’-এ বিক্ষোভ আয়োজন বন্ধে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক একটি আবেদনেও নোটিস জারি করেছেন আদালত। নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মৌলিক অধিকার এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের বিধিনিষেধের আইনি ভারসাম্য নিয়ে এ মামলায় পরবর্তী শুনানি হবে। সামগ্রিকভাবে ভোটার তালিকার সংস্কারকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং বিরোধী দলনেতার ওপর আদালতের ক্ষোভ ভারতের আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।