ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ভোটাধিকার নিয়ে ভারতের সংবিধানের ১৪ ও ৩২৬ অনুচ্ছেদ উল্লেখ

গণহারে নাগরিকদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোনো প্রক্রিয়াকে সমর্থন করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, বিপুলসংখ্যক ভারতীয়কে ভোটাধিকার থেকে বাদ দিয়ে নিজ দেশেই ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’-এ পরিণত করার মতো কোনো প্রক্রিয়া স্বভাবতই স্বেচ্ছাচারী।রোববার (৪ অক্টোবর) হায়দরাবাদের নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া।তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোনো উদ্যোগকে অন্য কোনো যুক্তি দেখিয়ে বৈধতা দেওয়া যায় না। এ ধরনের প্রক্রিয়া নাগরিকদের অধিকার ও সাংবিধানিক সমতার প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।বিচারপতি ভূঁইয়ার মতে, ভারতের সংবিধানে ভোটাধিকার আছে এমন নাগরিক এবং ভোটাধিকার নেই—এমন দুই ধরনের নাগরিকের আলাদা শ্রেণি তৈরির সুযোগ নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাপকসংখ্যক নাগরিককে ভোটাধিকার থেকে বাদ দেওয়ার কোনো প্রক্রিয়া সংবিধানের ১৪ ও ৩২৬ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।তিনি আরও বলেন, নাগরিকের পরিচয় থেকে ভোটাধিকারকে আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভোটাধিকার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভোটাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।ভোটাধিকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের প্রসঙ্গ তুলে বিচারপতি ভূঁইয়া বলেন, ভোটাধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া না হলেও আদালতের বিভিন্ন রায়ে এটিকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।তিনি বলেন, ভোটার তালিকায় কোনো নাগরিকের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর মৃত ভোটার ছাড়া অন্য কারও নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিস দেওয়া এবং নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।সর্বজনীন ভোটাধিকারের গুরুত্ব বোঝাতে বিচারপতি ভূঁইয়া বলেন, একজন কোটিপতি এবং একজন রিকশাচালকের ভোটের মূল্য সমান। তার মতে, এই সমতার ধারণাই সর্বজনীন ভোটাধিকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার নাগরিকত্বের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে এটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম ভিত্তি। ফলে নাগরিকদের ব্যাপক হারে ভোটাধিকার থেকে বাদ দেওয়ার যেকোনো প্রক্রিয়া সাংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ভোটাধিকার নিয়ে ভারতের সংবিধানের ১৪ ও ৩২৬ অনুচ্ছেদ উল্লেখ