ঢাকা    রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চীন সীমান্তের কাছে ১৩ হাজার ফুট উঁচুতে ভারতের সামরিক বিমানের রেকর্ড

চীন সীমান্তের কাছাকাছি দুর্গম হিমালয় অঞ্চলে ভারী সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করিয়ে নতুন রেকর্ড গড়ার দাবি করেছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। পূর্ব লাদাখের নিয়োমা বিমানঘাঁটিতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উচ্চতায় রাশিয়ার তৈরি আইএল-৭৬এমডি বিমানটি সফলভাবে নামানো হয়েছে। এই অর্জনের ফলে চীন সীমান্তে দ্রুত সেনা, সামরিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছানোর সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে মনে করছে ভারত।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিয়োমা বিমানঘাঁটিতে বিমানটি অবতরণ করে। পরদিন শনিবার (৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে এই সাফল্যের কথা জানায় ভারতীয় বিমানবাহিনী।বাহিনীটির দাবি, বিশ্বের আর কোথাও এত বেশি উচ্চতায় আইএল-৭৬এমডি মডেলের সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করেনি। এর মাধ্যমে এই নির্দিষ্ট ধরনের বিমানের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবতরণের নতুন রেকর্ড হয়েছে।ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের পোস্টে লিখেছে, ‘১৩ হাজার ৬২৯ ফুট। বিমান চলাচলের ইতিহাসে নতুন উচ্চতা।’বিমানটির সফল অবতরণকে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং পাইলট ও ক্রুদের দক্ষতা, নিখুঁত পরিচালনা এবং পেশাদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছে বাহিনীটি।এই অভিযানের সামরিক গুরুত্বও রয়েছে। নিয়োমা বিমানঘাঁটি চীনের সঙ্গে ভারতের বিরোধপূর্ণ সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে সীমান্তে কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে এই ঘাঁটি ব্যবহার করে দ্রুত সেনাসদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো সম্ভব হবে।পূর্ব লাদাখের ডেমচক এলাকা এবং প্যাংগং সো হ্রদের দক্ষিণ তীরের কাছাকাছি হওয়ায় নিয়োমার কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। দীর্ঘদিন ধরে চীন ও ভারতের সীমান্ত উত্তেজনার কারণে এই অঞ্চল সামরিক দিক থেকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এর আগে সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা ও রসদ পরিবহনের জন্য ভারতীয় বিমানবাহিনীকে প্রধানত লেহ ও থোইস বিমানঘাঁটির ওপর নির্ভর করতে হতো। এসব ঘাঁটি থেকে দুর্গম সীমান্ত এলাকায় পৌঁছাতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে।নিয়োমা বিমানঘাঁটি সীমান্তের আরও কাছে হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানোর সময় কমানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়েসমৃদ্ধ ঘাঁটিটি যুদ্ধবিমান ও ভারী পরিবহন বিমান পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘাঁটিটি পুরোপুরি চালু হয়।এখান থেকে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি, আহত সেনাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং সামরিক বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় রসদ পরিবহনের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।তবে এত বেশি উচ্চতায় ভারী বিমান ওঠানামা করানো সহজ নয়। পাহাড়ি অঞ্চলে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের ঘনত্ব কমতে থাকে। এর ফলে বিমানের ডানায় উৎপন্ন উত্তোলন শক্তি এবং ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা প্রভাবিত হয়।বিশেষ করে ভারী সামরিক পরিবহন বিমানের ক্ষেত্রে এমন পরিবেশে অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য বাড়তি দক্ষতা এবং সতর্কতার প্রয়োজন হয়।ভারতীয় বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত আইএল-৭৬এমডি বিমানটি ‘গজরাজ’ নামেও পরিচিত। চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট রুশ প্রযুক্তির এই বিমান দীর্ঘ দূরত্বে সেনাসদস্য, সামরিক যান, ভারী সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।এর আগেও লেহ ও থোইসের মতো উচ্চ পার্বত্য এলাকার বিমানঘাঁটিতে এই মডেলের বিমান পরিচালনা করেছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। তবে নিয়োমায় সর্বশেষ অবতরণ উচ্চতার দিক থেকে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে।ভারতীয় বিমানবাহিনীর মতে, এই সাফল্য দেশটির কৌশলগত আকাশপথে পরিবহন সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।চীনের সঙ্গে সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চলে ভারী পরিবহন বিমান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানো ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অগ্রগতি। বিশেষ করে প্রতিকূল আবহাওয়া ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির মধ্যে সেনা ও রসদ সরবরাহ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে নিয়োমা বিমানঘাঁটি নতুন সুবিধা দিতে পারে।সূত্র : গালফ নিউজ।

চীন সীমান্তের কাছে ১৩ হাজার ফুট উঁচুতে ভারতের সামরিক বিমানের রেকর্ড