ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ফিলিপাইনের কাছে ৮০ কোটি ডলারের ব্রহ্মস বিক্রির পথে ভারত

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিক তৎপরতা ও আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে উপকূলীয় নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে ফিলিপাইনের কাছে আরও বিপুল পরিমাণ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মস’ বিক্রির চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। নতুন এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ফিলিপাইন প্রায় ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্রসহ পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা (ব্যাটারি) সংগ্রহ করতে পারে। সম্ভাব্য এই প্রতিরক্ষা চুক্তির আর্থিক মূল্য হতে চলেছে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন (৭০ থেকে ৮০ কোটি) মার্কিন ডলার। সংশ্লিষ্ট তিনটি নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য প্রকাশ করেছে।ভারতের দুটি পদস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছে, নতুন সামরিক চুক্তিতে ফিলিপাইন তাদের সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্য প্রায় পাঁচটি ব্রহ্মস ব্যাটারি ক্রয়ের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে। এক ভারতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ফিলিপাইন ফের ব্রহ্মস সংগ্রহের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং নয়াদিল্লিকে এখন তারা এক বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে।এর আগে ২০২২ সালে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের এক ঐতিহাসিক চুক্তির অধীনে ফিলিপাইনের নৌবাহিনীর জন্য প্রথম দফায় ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ শুরু করেছিল ভারত, যা এখন প্রায় শেষের পথে। নতুন সম্ভাব্য চুক্তিটির আর্থিক আকার পূর্ববর্তী চুক্তির দ্বিগুণেরও বেশি।ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আর্সেনিও অ্যান্ডোলং জানান, প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের প্রশাসন দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় অতিরিক্ত ব্রহ্মস সংগ্রহের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া দিল্লি ডিফেন্স ডায়ালগে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নিয়ে ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরোও ব্রহ্মস ইউনিট সংগ্রহের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং ম্যানিলার আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে নিজেদের প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার বিষয়টি তুলে ধরেন।কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ ও জলসীমায় চীনা উপকূলরক্ষী বাহিনীর আগ্রাসী তৎপরতার মুখে ম্যানিলা ও বেইজিংয়ের মধ্যে বারবার সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই সামরিক ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে ফিলিপাইন নিজেদের সমুদ্রসীমা পাহারা দিতে উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে।ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ‘ব্রহ্মস’ বর্তমান বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর অন্যতম। শব্দের চেয়ে প্রায় তিন গুণ গতিতে (ম্যাক ২.৮) লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থলভাগ, নৌজাহাজ ও যুদ্ধবিমান—তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই সফলভাবে নিক্ষেপ করা যায়। গত বছর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংক্ষিপ্ত সংঘাতের সময় ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথমবারের মতো বাস্তবিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা অভাবনীয় হারে বাড়িয়ে দেয়।ফিলিপাইন ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের চুক্তি সম্পন্ন করেছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর সাথেও অস্ত্র রপ্তানি সংক্রান্ত আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে সমাপ্ত অর্থবছরে ভারতের সার্বিক প্রতিরক্ষা রপ্তানি রেকর্ড ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপি (প্রায় ৪১১ কোটি ডলার)-তে উন্নীত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৬২ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।সূত্র: রয়টার্স

ফিলিপাইনের কাছে ৮০ কোটি ডলারের ব্রহ্মস বিক্রির পথে ভারত