স্পেন-ফ্রান্সে দাবানলের তাণ্ডব, লাখো মানুষ ঘরছাড়া
স্পেন এবং ফ্রান্সে ব্যাপক দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় শতাধিক হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। স্পেনে মাদ্রিদের আশপাশে একাধিক আগুন একত্রিত হয়ে মহাপ্রলয়ের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যার কারণে দেশটি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।ফ্রান্সে দাবানল মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে ডাকা হয়েছে, যাদের কয়েকশো সদস্য আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। জানুয়ারি থেকে ফ্রান্সে ৯৮,০০০ হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে, যা একটি রেকর্ড। বৃহত্তর বোরদো শহরের শহরতলীতেও বড় আকারে দ্রুত অগ্নি বিস্তার ঘটায় লে হেইলেন, আইসিনেস এবং মেরিগন্যাক সহ সেসব অঞ্চল থেকে অবিলম্বে নির্গমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু এক্স প্ল্যাটফর্মে লেখেন, "আমাদের দেশকে আক্রান্ত করা দাবানল এতদিনে এরকম ভয়াবহ রূপ ধারণ করেনি।" মাদ্রিদের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো বিষয়টিকে আঞ্চলিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।আমাদ্রিদসহ স্পেন-ফ্রান্সে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ থেকে হেলিকপ্টার, বিমান ও টিম পাঠানো হয়েছে। রোমানিয়ার ৪০ জন ফায়ার ফাইটার, পর্তুগিজ এবং সুইডিশ বিমান, পাশাপাশি জার্মান, চেক, স্লোভাকিয়া ও সুইজারল্যান্ডের হেলিকপ্টার ও মাটির কর্মী আগুন নেভাতে অংশ নিচ্ছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন দাবানলের বিরুদ্ধে ফ্রান্স ও স্পেনের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।অবশ্য দাবানল শুধু এই দুই দেশেই সীমাবদ্ধ নেই। স্কটল্যান্ডের কায়র্নগর্মস জাতীয় উদ্যানে ১০ দিন ধরে আগুন বিস্তার চলছে, যেখানে ৫০০ এর বেশি ফায়ারফাইটার কাজ করছেন। নেথি ব্রিজ গ্রামটি জরুরি ভাবে খালি করতে বলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবানল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতায় হতাশ। স্কটল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী জন সোয়িনি বলেন, পরিস্থিতি এখনও খুবই গুরুতর এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল।ট্যুর দ্য ফ্রান্স প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ের দৈর্ঘ্যও কমিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যাতে পুলিশ কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। ব্রিটিশ সরকার স্পেন ও ফ্রান্সে যাতায়াত এড়াতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।এই দাবানলের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এবং আক্রান্ত এলাকায় মানুষদের জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।উৎস: The Independent