ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বিশ্বের শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ৪৫তম

জীবনযাত্রার তীব্র ব্যয় বৃদ্ধি, অপর্যাপ্ত মজুরি, আবাসন সংকট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেট সংকোচনের প্রতিবাদে ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়াম ও পর্তুগালসহ ইউরোপজুড়ে তীব্র সামাজিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই আন্দোলনের পেছনে কেবল দৈনন্দিন মূল্যস্ফীতিই নয়, বরং বিভিন্ন দেশের সরকারের মাত্রাতিরিক্ত ঋণের বোঝা এবং বন্ডের আকাশচুম্বী সুদ পরিশোধের চাপ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, সরকারি ঋণের মোট পরিমাণের দিক থেকে বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র, আর বৈশ্বিক এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণে আইএমএফের ডেটা উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১২৭ শতাংশ। সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন (২২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, জিডিপির ১০৪%) এবং তৃতীয় স্থানে থাকা জাপানের সরকারি ঋণ ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার (যা তাদের জিডিপির ১৯৯%)। এর পরের অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য (৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং পঞ্চম স্থানে থাকা ফ্রান্স (৪.২ ট্রিলিয়ন ডলার, জিডিপির ১১৮%)।অন্যদিকে, বৈশ্বিক ঋণ তালিকায় ৪৫ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের মোট সরকারি ঋণের স্থিতি বর্তমানে ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ। ২০১০ সালে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ গত দেড় দশকে দেশে সরকারি ঋণ বেড়ে প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে। তবে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ঋণ-জিডিপি অনুপাত এখনো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও সহনশীল সীমার মধ্যে রয়েছে।প্রতিবেদনে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত ঋণের কারণে উন্নত দেশগুলোকে চড়া সুদে আন্তর্জাতিক বাজার ও বন্ড থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ফ্রান্সে ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার ইতোমধ্যে ৫ শতাংশ ছুঁয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত মৌলিক খাতের বরাদ্দ সংকুচিত করে কেবল ঋণের সুদ পরিশোধেই বিশাল অঙ্কের বাজেট ব্যয় করতে হচ্ছে।ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বৈশ্বিক মোট ঋণের স্থিতি ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা গড়ে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের ওপর প্রায় ৪৪ হাজার ডলার ঋণের দায় সৃষ্টি করেছে। কেবল গত এক বছরেই উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো তাদের সরকারি বন্ডের সুদ বাবদ ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ পরিশোধ করেছে, যা বিশ্বের মোট বার্ষিক সামরিক ব্যয় (৩.১ ট্রিলিয়ন ডলার) কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সামগ্রিক ব্যয়ের (২.৬ ট্রিলিয়ন ডলার) চেয়েও অনেক বেশি।

বিশ্বের শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ৪৫তম