সৌদি রুটে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৬ হাজার যাত্রী
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোয় জারি করা জরুরি বিধিনিষেধের বড় প্রভাব পড়েছে ঢাকা-সৌদি রুটের বিমান চলাচলে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত মোট ১০৭টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট ব্যাহত কিংবা বাতিল হয়েছে। এর ফলে অন্তত ১৬ হাজার ৬২০ জন সৌদিগামী ও দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রী মারাত্মক অনিশ্চয়তা ও চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৪৪টি সরাসরি এবং ৬৩টি আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।সরাসরি পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট সময়সূচি বিপর্যয় বা বাতিলের শিকার হয়েছে।অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন রুট হয়ে যাওয়া ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইটের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি এবং ইজিপ্টএয়ারের ১টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।আকস্মিক এই ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান ও জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবে যেতে চাওয়া যাত্রীদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। একইভাবে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা অসংখ্য প্রবাসী বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। বিশেষ করে ট্রানজিট ফ্লাইটগুলো ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প রুটে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে যাত্রীদের পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বেবিচক জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাতিল বা স্থগিত ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণের জোর চেষ্টা চলছে। তবে সৌদি আরবের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ওপরই ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে।