অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি কি বেশি? যা বলছে গবেষণা
বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কখনো বিয়ে না করা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার আগে কখনো বিয়ে করেছেন এমন ব্যক্তিদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যে ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা হয়েছে। ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের তথ্য নিয়ে গবেষকেরা ক্যানসারের হার ও বৈবাহিক অবস্থার মধ্যে সম্পর্ক খুঁজেছেন। তবে শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, গবেষণাটি বর্তমানে বিবাহিত বনাম অবিবাহিত ব্যক্তিদের তুলনা করেনি। বরং কখনো বিয়ে করেননি এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে আগে কখনো বিয়ে করেছেন এমন ব্যক্তিদের তুলনা করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, কখনো বিয়ে করেননি এমন পুরুষদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার আগে কখনো বিয়ে করেছেন এমন পুরুষদের তুলনায় ৬৮ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য আরও বেশি, ৮৩ শতাংশ। গবেষণায় বিভিন্ন বয়স, জাতিগোষ্ঠী এবং বড় ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ বিয়ে না করলেই ক্যানসার হবে, এমন নয়। গবেষণাটি পর্যবেক্ষণমূলক। ফলে বৈবাহিক অবস্থা নিজেই ক্যানসারের সরাসরি কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।তাহলে পার্থক্যটা কেন? গবেষকদের ধারণা, এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাপন ও সামাজিক নানা বিষয় কাজ করতে পারে। ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ, সংক্রমণের ঝুঁকি, স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সুযোগ, ক্যানসার শনাক্তকরণ পরীক্ষা এবং সামাজিক সহায়তার মতো বিষয়গুলো বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ফলে শুধু বিয়ে করেছেন কি না, সেটি দিয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি ব্যাখ্যা করা যায় না। নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল। গবেষণায় জরায়ুমুখসহ কিছু ক্যানসারের সঙ্গে বৈবাহিক অবস্থার বড় পার্থক্য পাওয়া গেছে। প্রজনন-ইতিহাসও কিছু ক্যানসারের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই গবেষণায় প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর বিস্তারিত প্রজনন-তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়নি। তাই এর প্রভাব কতটা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে কখনো বিয়ে না করা এবং আগে বিয়ে করা ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যানসারের হারের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য ৩০ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের তুলনায় বেশি ছিল। অর্থাৎ, গবেষণার মূল বার্তা বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা মিলবে, এমন নয়। বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ধূমপান এড়িয়ে চলা, প্রয়োজনীয় ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার মতো বিষয়গুলো ক্যানসার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।