সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ জামায়াতের দুই এমপির
চুয়াডাঙ্গায় নতুন নিয়োগ পাওয়া ৪৫ জন সার ডিলারের মধ্যে ৪২ জনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন জেলার দুটি আসনের সংসদ সদস্য। তাঁদের দাবি, সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জেলার চারটি উপজেলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ৪৫ জন নতুন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ৪২ জনকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।দুই সংসদ সদস্যের দাবি, নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এ ছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রী ও স্বজনদেরও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিও রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।নিয়োগপ্রক্রিয়ার কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল অভিযোগ করেন, এবারের সার ডিলার নিয়োগে অতীতের সব অনিয়মের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আগে যাঁরা সার ডিলার ছিলেন, তাঁরা তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বড় পদে ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি।তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরির জন্য তড়িঘড়ি করে সার ডিলার নিয়োগের নীতিমালা পরিবর্তন করা হয়েছে।মাসুদ পারভেজ রাসেলের দাবি, জনপ্রতিনিধিদের নিয়োগপ্রক্রিয়ার বাইরে রেখে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দলীয়করণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।এদিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন অভিযোগ করেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনেকেরই আগে ব্যবসার অভিজ্ঞতা ছিল না। সার ডিলার হওয়ার জন্য তাঁরা নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক হিসাব খুলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়োগের নথিপত্র পরীক্ষা করলে এসব তথ্য পাওয়া যাবে। এমনকি রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রী ও ছেলেরাও ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন রুহুল আমীন।এই নিয়োগে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নিয়োগ কমিটির প্রধান হিসেবে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক যেমন দায় এড়াতে পারেন না, তেমনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদেরও দায় রয়েছে।জেলা প্রশাসক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালনা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন রুহুল আমীন।এর আগে চুয়াডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগের আবেদনপর্বেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, জেলার ৪৫টি ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩টি আবেদন জমা পড়ে। আবেদনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীও ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়াউল হক, জীবননগর উপজেলা সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা পৌর আমির হাসিবুল ইসলাম এবং পৌর সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল।তবে নিয়োগ পাওয়া ৪২ জনের রাজনৈতিক পরিচয়, আর্থিক লেনদেন কিংবা নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা বিএনপির কোনো বক্তব্যও প্রদত্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।