তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা, বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের পথে যুক্তরাষ্ট্র?
ইরানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক অঙ্গনে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা নিয়ে নতুন করে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। এই উদ্বেগকে আরও উসকে দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পূর্বনির্ধারিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ও দাপ্তরিক কর্মসূচি আকস্মিকভাবে বাতিল হওয়ার ঘটনা। সম্ভাব্য সংঘাত যদি সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নেয়, তবে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে (ড্রাফট বা কনস্ক্রিপশন) অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও পেন্টাগন কিংবা হোয়াইট হাউসের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে।ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সপ্তাহান্তে আইওয়া ও ক্যানসাসে নির্ধারিত নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে মিনেসোটায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বহুল আলোচিত ‘ওয়ার অন ফ্রড’ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনও স্থগিত করা হয়। আনুষ্ঠানিক কারণ স্পষ্ট না করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা ও উত্তেজনার খবরের পরই এসব কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা আসে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফিসহ একাধিক মার্কিন নীতিনির্ধারক ইতিমধ্যে সতর্ক করেছেন যে, সংঘাত দীর্ঘায়িত বা বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বেন। এমন উত্তেজনার মুখে ১৯৬৯ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ের মতো সাধারণ নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে ডাকার পুরোনো বিতর্ক ফিরে এসেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় লটারি পদ্ধতিতে ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী প্রায় ১৮ লাখ মার্কিন পুরুষকে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে বিশ্লেষকরা নিশ্চিত করেছেন, ১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক ড্রাফট প্রথা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং বর্তমানে দেশটির সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ পেশাদার ও স্বেচ্ছাসেবী কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের ‘সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেমে’ নাম নিবন্ধন কেবল সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির তালিকা সংরক্ষণ মাত্র, কোনো সরাসরি নিয়োগের আদেশ নয়। তাছাড়া সামরিক কৌশল বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার লির মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মূলত নৌ ও বিমান হামলার ওপর নির্ভরশীল; সেখানে মার্কিন স্থলবাহিনীর সরাসরি অভিযান অবাস্তব হওয়ায় সাধারণ নাগরিকদের যুদ্ধে ডাকার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।এদিকে ইউরোপের মিত্র যুক্তরাজ্যেও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমসের বরাতে জানা গেছে, দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন চারটি ট্রাইডেন্ট সাবমেরিনের মধ্যে তিনটিই বর্তমানে সাগরে টহলে নিয়োজিত রয়েছে, যা ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল। এছাড়া ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্সে যোগদানের বয়সসীমা ৫৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ সেনাপ্রধান লর্ড ড্যানাট জানিয়েছেন, বড় সংঘাত দেখা দিলে প্রথমে রিজার্ভ সদস্যদের সক্রিয় করা হবে, তবে সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি বাধ্যতামূলক নিয়োগের সুযোগ এখনই নেই।সার্বিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য কোনো দেশই সাধারণ নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে ডাকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি; বরং চলমান জল্পনাটি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নির্বাচনী বাতিলের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট একধরনের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস