মাঝপথে থেমে গেল বিশ্বভ্রমণকারী প্রমোদতরি, নামিয়ে দেওয়া হলো যাত্রীদের
ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট সরবরাহ সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় মাঝপথেই কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্বভ্রমণে থাকা বিলাসবহুল প্রমোদতরি ‘ভিলা ভি ওডিসি’। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অবিরাম আন্তর্জাতিক নৌভ্রমণ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজের সকল যাত্রীকে কম্বোডিয়ায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেস (Villa Vie Residences) আকাশচুম্বী জ্বালানি ব্যয় সামাল দিতে না পেরে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগে ইরান যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে তীব্র সংকট তৈরি হয়। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্রুজ কর্তৃপক্ষ জাহাজের গতি কমানো এবং বিভিন্ন বন্দরে অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধির মতো কৌশল অবলম্বন করেছিল। তবে এশিয়ার কয়েকটি সামুদ্রিক অঞ্চলে জাহাজটির প্রতিটি কেবিনের বিপরীতে মাসিক জ্বালানি খরচ যেখানে ছিল ১ হাজার ৮০০ ডলার, তা লাফিয়ে প্রায় ৮ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকে। এই বিপুল অতিরিক্ত ব্যয়ভার সাধারণ যাত্রীদের ওপর এককভাবে চাপিয়ে দেওয়া অবাস্তব হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কম্বোডিয়ায় যাত্রা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ৬৪০ ফুট দীর্ঘ এই বিশালাকার প্রমোদতরি। বিশ্বজুড়ে ৪০০ টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্য ঘুরে দেখার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে পাঁচ বছরের টিকিট ফি শুরু হয়েছিল ৫৯ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে এবং স্থায়ীভাবে কেবিন কেনার জন্য খরচ পড়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৯ ডলার পর্যন্ত (মাসিক সার্ভিস ফি বাদে)।যাত্রীদের অভিযোগ, জাহাজ থেকে নেমে যাওয়ার নোটিশ তাঁদের দেওয়া হয়েছিল এক দিনেরও কম সময় আগে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) বন্ধ রাখাসহ নানা কৃচ্ছ্রসাধনের কারণে শেষ দিনগুলোতে জাহাজে থাকা অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত অনেকে সারা জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে কেবিন কিনে একেই স্থায়ী বাড়ি বানিয়েছিলেন, ফলে তাঁরা হঠাৎ করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।আপাতত যাত্রীদের কম্বোডিয়ায় অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করেছে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ। আগামী দুই মাস ধরে তারা আর্থিক পুনর্গঠন ও নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজার চেষ্টা চালাবে। তবে সেই প্রচেষ্টা সফল না হলে আলোচিত এই বিলাসবহুল প্রমোদতরি পুনরায় সাগরে ভাসবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।সূত্র: সিএনএন