পরীক্ষায় ফেল মানেই সব শেষ নয়, ব্যর্থতা পেরিয়ে বিশ্বজয়ী তারা
‘একবার ফেল করেছি, আমাকে দিয়ে আর কিছু হবে না’—পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে এমন হতাশাজনক মানসিকতা প্রায়ই ভর করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তবে বিশ্ব ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট দেখা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার নম্বর বা সনদ কখনোই একজন মানুষের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি কিংবা ভবিষ্যৎ সাফল্যের চূড়ান্ত মাপকাঠি হতে পারে না। উইনস্টন চার্চিল, স্টিভ জবস, বিল গেটস, জ্যাক মা কিংবা ধীরুভাই আম্বানির মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিরা প্রমাণ করেছেন যে—ব্যর্থতাকে পুঁজি করে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, অদম্য সাহস আর কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত রাখলে জীবনের যেকোনো পর্যায় থেকেই বিশ্বজয়ী হওয়া সম্ভব।ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি রাষ্ট্রনায়ক উইনস্টন চার্চিল ছিলেন স্কুলজীবনের এক তথাকথিত ‘খারাপ ছাত্র’। পরীক্ষায় বারবার ফেল করায় শিক্ষকরা তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশ্যেই হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই চার্চিলই পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংকটময় মুহূর্তে যুক্তরাজ্য ও মিত্রশক্তিকে নেতৃত্ব দিয়ে রক্ষা করেন এবং সাহিত্যের জন্য অর্জন করেন নোবেল পুরস্কার।ব্যর্থতা ও প্রত্যাখ্যানের সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ তৈরি করেছেন আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় গণিতে মাত্র ১ নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে তিনবার পরীক্ষা দিয়েও সুযোগ পাননি তিনি। কর্মজীবনে কেএফসির চাকরির পরীক্ষায় ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৩ জনের চাকরি হলেও কেবল তিনিই প্রত্যাখ্যাত হন। এমনকি পুলিশে চাকরির আবেদন ও প্রাথমিক ব্যবসায়িক উদ্যোগে ৩০ জন বিনিয়োগকারীর দ্বারস্থ হয়েও ফিরে আসতে হয়েছিল খালি হাতে। তবে নিজের স্বপ্নের ওপর অবিচল আস্থা রেখে মাত্র ১৮ জন সহযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়ির ঘর থেকে গড়ে তোলেন বর্তমান বৈশ্বিক ই-কমার্স সাম্রাজ্য ‘আলিবাবা’।প্রযুক্তি জগতের দুই দিকপাল স্টিভ জবস ও বিল গেটস প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির গণ্ডি না পেরিয়েও বৈশ্বিক অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। আর্থিক সংকট ও প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক আগ্রহের অভাবে রিড কলেজ ছেড়ে মাত্র ২০ বছর বয়সে গ্যারেজ থেকে অ্যাপল প্রতিষ্ঠা করেন স্টিভ জবস। এমনকি নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে একপর্যায়ে বহিষ্কৃত হয়েও হাল ছাড়েননি; ফিরে এসে ম্যাকবুক, আইফোন ও আইপ্যাডের মতো উদ্ভাবন দিয়ে প্রযুক্তির ধারা বদলে দেন। অন্যদিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা মাঝপথে স্থগিত রেখে মাইক্রোসফট তৈরি করে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও প্রভাবশালী উদ্যোক্তা হন বিল গেটস।একইভাবে মাত্র সাধারণ গড়পড়তা প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে নিজের বুদ্ধি ও ঝুঁকি নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতার বলে ভারতের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী ‘রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ’ গড়ে তোলেন ধীরুভাই আম্বানি।ইতিহাসের এই অনন্য দৃষ্টান্তগুলো স্পষ্ট বার্তা দেয়, শিক্ষাজীবনের কোনো একটি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবনের ইতি নয়। পরাজয়ের ধাক্কা সামলে ব্যর্থতা থেকে কী শিক্ষা নেওয়া হলো এবং তা দিয়ে কীভাবে নিজের নতুন ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি করা গেল—সেটাই সফল ও ব্যর্থ মানুষের মধ্যবর্তী মূল পার্থক্য গড়ে দেয়।