বিবাহ ও তালাকের তথ্য যাচাই হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে: আইনমন্ত্রী
বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, জাল বিবাহ সনদ এবং বিবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প এবং ব্র্যাকের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন কোনো কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সামনে এলে সরকার তা গ্রহণ করতে আগ্রহী। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিক সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করাই সরকারের লক্ষ্য।তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এ অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।[BANGVIEWS-POST:5488]প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় থাকা উপজেলাগুলো হলো গাজীপুরের কালীগঞ্জ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, শেরপুরের ঝিনাইগাতী, কুড়িগ্রাম সদর, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, নড়াইল সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, সিলেট সদর, কক্সবাজারের চকরিয়া এবং কিশোরগঞ্জ সদর।প্রকল্পের আওতায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে। এর ফলে বিবাহের সময় বয়স ও পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হবে।এ ব্যবস্থায় বিবাহ ও তালাকের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং নাগরিকরা দ্রুত ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি গোপন বিবাহ, একাধিক বিবাহ এবং ভুয়া তথ্য ব্যবহারের মতো বিষয় শনাক্ত করাও সহজ হবে।[BANGVIEWS-POST:5487]প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন সফটওয়্যার তৈরির কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। জাতীয় ডাটা সেন্টারের ক্লাউড সার্ভারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগ এবং পেমেন্ট গেটওয়ে ও বায়োমেট্রিক ডিভাইস পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করা হয়েছে।আইনমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব।