ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এলএনজি টার্মিনাল চালুতে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ: ১১ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল বিদ্যুৎ উৎপাদন

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালের প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পুনরায় রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) দুপুর ১টা থেকে টার্মিনালটি সচল হওয়ায় দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্যাস গ্রিডে পূর্বের মতো স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একই দিনে দেশে সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের পরিমাণও ১১ হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করেছে। গ্যাস, কয়লা, তরল জ্বালানি, নবায়নযোগ্য উৎস এবং প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল রাখা হয়েছে।পেট্রোবাংলার উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) তরিকুল ইসলাম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ শেষ করে দুপুর ১টা থেকে গ্যাস রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে মহেশখালীর দুটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪০৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে নিজস্ব দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ১ হাজার ৫৮৪ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পুনঃগ্যাসীকরণের মাধ্যমে গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৮২৪ মিলিয়ন ঘনফুট, যা মোট জাতীয় গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৪ শতাংশ।এদিকে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর সকাল ১১টায় দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ১২ মেগাওয়াট। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮৬৭ মেগাওয়াট এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ৪ হাজার ৩৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র থেকে এসেছে ১৬২ মেগাওয়াট। পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের মধ্যে জলবিদ্যুৎ থেকে ৪০ মেগাওয়াট, সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৭১৩ মেগাওয়াট এবং বায়ুবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত হয়েছে ২ মেগাওয়াট।এর বাইরে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে ভারত থেকে মোট ১ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে ভেড়ামারা এইচভিডিসি ইন্টারকানেকশন দিয়ে ৮৭০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে ৪৮ মেগাওয়াট এবং আদানি পাওয়ার থেকে সরবরাহ এসেছে ৯৩৭ মেগাওয়াট। এ ছাড়া নেপাল থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হয়েছে ৩৮ মেগাওয়াট। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় ৩৯ শতাংশ কয়লা এবং ৩৫ শতাংশ গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে আসছে। ফলে সামিট টার্মিনাল সচল হয়ে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সহজ হবে এবং সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল থাকবে।

এলএনজি টার্মিনাল চালুতে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ: ১১ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল বিদ্যুৎ উৎপাদন