ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বন্যায় বন্ধ থাকার পর ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করল নেপাল

প্রায় দুই মাসের বিরতির পর নেপাল থেকে আবারও বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ। ভয়াবহ বন্যায় দেশটির দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে পুনরায় চালু হয়েছে। ভারতের সঞ্চালন অবকাঠামো ব্যবহার করেই বাংলাদেশে এই বিদ্যুৎ পাঠানো হচ্ছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যার কারণে ত্রিশুলি ও চিলিমে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য অনুমোদিত এ দুটি কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।একই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়ায় দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বিদ্যুৎ রপ্তানিও আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (এনইএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিকল্প জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়েছে।নতুন ব্যবস্থায় নেপালের সোলু খোলা ও কাবেলি বি-১ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।অন্যদিকে, ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদন পেয়েছে লোয়ার মোদি খোলা জলবিদ্যুৎকেন্দ্র।এর আগে রপ্তানির জন্য নির্ধারিত ত্রিশুলি, চিলিমে ও দেবীঘাট জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবর্তে নতুন কেন্দ্রগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এনইএর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বন্যায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র ব্যবহার করে রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।তাঁর মতে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় নেপালের বর্ষাকালীন উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানির ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির মাধ্যমে।ওই দিন নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা নেপালের।ভারতের সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে এ বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে। তবে আগস্টের বন্যায় উৎপাদনকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নির্ধারিত মৌসুমের মাঝপথেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।বিকল্প বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন পাওয়ায় এখন সেই সরবরাহ আবার চালু হলো।বন্যায় কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকলেও ভারতের বাজারে বিদ্যুৎ রপ্তানি থেকে নেপালের আয় বেড়েছে।নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতে বিদ্যুৎ বিক্রি করে নেপাল আয় করেছে ৫৯২ কোটি ৫০ লাখ নেপালি রুপি।ওই সময় দেশটি ভারতে মোট ৬৩৩ দশমিক ৯৮৬ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদ্যুৎ রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৯৬ কোটি ২০ লাখ নেপালি রুপি।এ ছাড়া চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৩ কোটি ২৫ লাখ রুপি।এনইএর ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা জানান, বন্যার কারণে কয়েকটি অনুমোদিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতে রপ্তানি করা বিদ্যুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বিক্রি হয়েছে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায়।এ চুক্তির মাধ্যমে ভারতের হরিয়ানা ও বিহার রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নেপাল। বাকি বিদ্যুৎ বিক্রি হয়েছে ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের বাজারের মাধ্যমে।মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতিবেশী দেশে রপ্তানি করে নেপাল।এবার বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে বিকল্প জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি পুনরায় চালু হওয়াকে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

বন্যায় বন্ধ থাকার পর ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করল নেপাল