ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মনপুরায় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক-কর্মকর্তার সংঘর্ষ, আহত ৫

ভোলার মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে গ্রাহক ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তার মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও চার গ্রাহক আহত হয়েছেন। ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ডাকবাংলো মোড়ে ওজোপাডিকোর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।আহতরা হলেন ওজোপাডিকোর মনপুরার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির এবং হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মো. শরিফ, মো. আক্তার, সোহাগ ও নিরব। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মনপুরার গ্রাহকরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাতে মাত্র দুই ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন গ্রাহক বিদ্যুৎ সরবরাহের ভোগান্তি নিয়ে অভিযোগ জানাতে ওজোপাডিকোর কার্যালয়ে যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।ঘটনার পর হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা চার গ্রাহককে বিদ্যুৎ অফিসে মারধরের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে ঘটনার বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন তারা। অন্যদিকে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগে মনপুরা থানায় মামলা করা হয়েছে।আহত গ্রাহক সোহাগ, নিরব, শরীফ ও আক্তারের অভিযোগ, রাতে তারা মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান। বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির অতিরিক্ত টাকা চান এবং টাকা না দিলে লাইন কেটে দেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব বিষয়ে কথা বলতে কার্যালয়ে গেলে মনির উত্তেজিত হয়ে তাদের মারধর ও জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন বলে দাবি করেন চার গ্রাহক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৌশলীর বিচার দাবি করেছেন।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, কারও কাছে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়নি। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। তার দাবি, গ্রাহকরা কোনো কথা না শুনেই তার ওপর হামলা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।ওজোপাডিকোর মনপুরার আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, পাওয়ার হাউজের তিনটি মেশিনের মধ্যে দুটি নষ্ট রয়েছে। একটি মেশিন দিয়ে কোনোভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তাদের মারধরের ঘটনা ঠিক হয়নি উল্লেখ করে তিনি জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মনপুরার বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তড়িৎ চন্দ্র শীল জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং গ্রাহকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।নোট: অতিরিক্ত অর্থ দাবি, লাইন কেটে দেওয়া এবং কে প্রথম হামলা করেছে—এসব বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। তাই অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

মনপুরায় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক-কর্মকর্তার সংঘর্ষ, আহত ৫